নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ডাকা কথিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একাংশ। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুমির নেতৃত্বে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ থেকে মিছিলটি বের হয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটক, জজকোর্ট ও ভিক্টোরিয়া পার্ক হয়ে আবার প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন নেতা-কর্মীরা। কর্মসূচিতে ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
সমাবেশে মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুমি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। কিন্তু গণহত্যার জন্য দায়ীদের দোসররা কোনো অনুশোচনা না করে এই অর্জনকে ম্লান করার জন্য বিভিন্নভাবে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তারা গোপনে বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হবে না উল্লেখ করে রুমি বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এক ইঞ্চি মাটিতেও গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দোসরদের জায়গা দেওয়া হবে না। শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এক ইঞ্চি মাটিতেও তাদের জায়গা দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতিটি নেতা-কর্মী প্রস্তুত রয়েছে।’
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে রুমি বলেন, ‘নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সাম্য, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন। এই প্রচেষ্টাকে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে আমরা রাজনৈতিকভাবে তার মোকাবিলা করব। বাংলাদেশের প্রশ্নে এবং জনাব তারেক রহমানের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ।’
সাম্প্রতিক সহিংসতা ও বোমাবাজির ঘটনাগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৭১-এর পরাজিত শক্তি এবং ২৪-এর পরাজিত শক্তির মধ্যে কোনো ধরনের যোগসাজশ রয়েছে কি না, তদন্তের মাধ্যমে সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত।’
দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবে বলেও জানান রুমি। তিনি বলেন, ‘রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাখতে যা যা করা প্রয়োজন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল তা করবে।’
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাপ্পি/সা.এ


