নিজের ২৯তম জন্মদিনটি জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলেন হামজা চৌধুরী। দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর প্রত্যাশাও ছিল তাকে ঘিরে। কিন্তু বিশেষ দিনটিই শেষ পর্যন্ত তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম হতাশার দিনে পরিণত হয়েছে।
ফিফা আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় পরাজয়ের হতাশা আর ম্যাচের উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে হামজার ওপরও। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর ইন্দোনেশিয়ার ফরোয়ার্ড রাগ্নার ওরাটমাঙ্গোয়েনের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার।
মাঠে সাধারণত শান্ত স্বভাবের হিসেবে পরিচিত হামজাকে ম্যাচ শেষে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিও হয়। পরে দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং হামজাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
বাংলাদেশ দলের সাবেক ফরোয়ার্ড জাহিদ হাসান এমিলির মতে, বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের হতাশার পাশাপাশি ম্যাচের শেষ দিকে ভিএআর যাচাই এবং অতিরিক্ত সময় নিয়েও হামজার মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। টি স্পোর্টসের ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশকে চাপে রাখে ইন্দোনেশিয়া। নির্ধারিত সময় শেষে ম্যাচে যোগ করা হয় দুই মিনিট। সেই অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটেই ফারহান আলী ওয়াহিদ বাংলাদেশের হয়ে নিজের প্রথম গোল করেন। এতে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৭-২।
ফারহানের গোলের পর ইন্দোনেশিয়ার ফাইনালে ওঠার সমীকরণ কঠিন হয়ে পড়ে। ফিফা আসিয়ান কাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে তাদের আরও দুই গোল প্রয়োজন ছিল। এরপর যোগ করা সময় আরও পাঁচ মিনিট বাড়ানো হয়।
শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের শেষ দুই মিনিটে আরও দুটি গোল করে ইন্দোনেশিয়া। ফলে ৯-২ গোলের বিশাল জয় নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে তারা।
অন্যদিকে, জন্মদিনে এমন বড় পরাজয় এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা মিলিয়ে হতাশাজনক এক রাত কাটে হামজা চৌধুরী ও বাংলাদেশ দলের।
কুশল/সাএ


