নেপালে চলমান ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কাঠমান্ডুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এ পরামর্শ দেওয়া হয়।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, নেপালে চলমান ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বাংলাদেশি পর্যটক ও ট্রেকারদের ভ্রমণে সতর্ক থাকতে হবে। আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।
বিশেষ করে পিসাং, চামে, মানাং ও আশপাশের পর্যটন এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতের কারণে বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটেছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রমও কঠিন হয়ে পড়েছে।
কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে মানাংয়ের বিভিন্ন এলাকায় ট্রেকিং স্থগিত করেছে। এর মধ্যে তিলিচো লেক, থরং লা পাস, আইস লেক, কাং লা ও ভীমথাং উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া ভূমিধসের কারণে পোখারা ও আশপাশের এলাকায় সড়ক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ট্রেকিং গন্তব্যে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। মুস্তাং, জমসমসহ পার্বত্য এলাকাগুলোতে যাওয়ার আগে গান্দাকি প্রদেশের সড়ক পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব সড়কে যেকোনো সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে দূতাবাস।
বাংলাদেশি নাগরিকদের অন্নপূর্ণা, মানাং, মুস্তাং ও মানাসলু অঞ্চলসহ পার্বত্য ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় ট্রেকিং, পর্বতারোহণ বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে আবহাওয়া, সড়ক পরিস্থিতি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার পাশাপাশি নদীর তীর ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। ভ্রমণের আগে সড়ক ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি যাচাই এবং ট্রাভেল অপারেটর ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, তারা নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে।
কুশল/সাএ


