Homeসর্বশেষভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়কে ৭০ মৃত্যুফাঁদ: পাঁচ বছরে ২৩০০ জনের প্রাণহানি

ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়কে ৭০ মৃত্যুফাঁদ: পাঁচ বছরে ২৩০০ জনের প্রাণহানি

Published on

spot_img

পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বাড়লেও ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের বড় একটি অংশ এখনো সরু দুই লেনের। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে থাকা বিপজ্জনক বাঁক, খানাখন্দ, অপরিকল্পিত বাজার ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ১৬৬ কিলোমিটার মহাসড়কে প্রায় ৭০টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে, যার অন্তত ৪০টি অত্যন্ত দুর্ঘটনাপ্রবণ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ভাঙ্গা-কুয়াকাটা সড়কে ১ হাজার ৯৮৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ। একই সময়ে সড়কটিতে যানবাহনের চাপও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পদ্মা সেতু চালুর আগে দৈনিক ১৭ থেকে ১৯ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও চলতি বছরের জুনে তা বেড়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজারে পৌঁছেছে।

মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে একের পর এক তীক্ষ্ণ বাঁক থাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন আগে থেকে দেখা যায় না। বিশেষ করে দ্রুতগতির যানবাহন এসব বাঁকে প্রবেশের পর নিয়ন্ত্রণ হারালে মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কের গৌরনদীর ভূরঘাটা, টরকী, আশোকাঠী, মাহিলাড়া, বাটাজোড়, উজিরপুরের সানুহার, বামরাইল, জয়শ্রী, বাবুগঞ্জের নতুনহাট, রহমতপুর, বরিশালের গড়িয়ারপাড়, দপদপিয়া, নলছিটি, বাকেরগঞ্জের লক্ষ্মীপাশা, ভরপাশা, আমতলী ও কলাপাড়ার বিভিন্ন এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন চালক ও পরিবহন মালিকেরা।

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের পটুয়াখালীর চৌরাস্তা থেকে আমতলীর বান্দ্রা পর্যন্ত মাত্র ৪৯ কিলোমিটার অংশেই রয়েছে ৪০টি ‘ভয়ংকর’ বাঁক। এসব বাঁকের কয়েকটিতে নিয়মিত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। চলতি মাসেই পটুয়াখালীর বসাক বাজার এলাকায় বাস খাদে পড়ে ৪ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর কিছুদিন আগেও একই স্থানে মোটরসাইকেল ও বাসের সংঘর্ষে চালক নিহত হন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা ও গতি দুটোই বেড়েছে। কিন্তু সড়কের বড় অংশ এখনো ২৪ থেকে ৩০ ফুট প্রশস্ত দুই লেনের। ফলে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি ধীরগতির যানবাহন চলাচল করায় ঝুঁকি বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সড়কের ওপর হাটবাজার, অবৈধ পার্কিং, অনিয়ন্ত্রিত পথচারী পারাপার এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং।

ভুক্তভোগী দেলোয়ার হাওলাদার জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় তার ভাই পঙ্গু হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ মেটাতে গিয়ে তাদের পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলামের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও সড়কটিতে সঠিক ট্রাফিক চিহ্ন, গতি নিয়ন্ত্রণ বা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের সচেতনতার পাশাপাশি মহাসড়কের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিপজ্জনক বাঁকগুলোতে স্পষ্ট সড়ক নির্দেশক, প্রতিফলক, সতর্কতামূলক বাতি ও প্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড স্থাপন, সড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কের প্রয়োজনীয় অংশ দ্রুত প্রশস্ত ও আধুনিকায়ন করা না হলে যানবাহনের চাপের সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।



কুশল/সাএ

Latest articles

ময়মনসিংহে তুচ্ছ ঘটনায় যুবকের লাথিতে চাচার মৃত্যু

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় তুচ্ছ ঘটনার জেরে ফাহাদ হোসেন নামের এক যুবকের লাথিতে আনোয়ার হোসেন...

নাগরপুরে আনসার ও ভিডিপির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক এর পক্ষ থেকে এবং...

কুড়িগ্রামে তিন পুত্রসন্তানের জননীকে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়া কল্পনা বেগম ও তাঁর পরিবারের পাশে...

‘জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত’ বলে ভি চিহ্ন দেখালেন পলক

দুদকের মামলায় আদালতে হাজিরা শেষে কারাগারে ফেরার সময় ‘জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হচ্ছে...

More like this

ময়মনসিংহে তুচ্ছ ঘটনায় যুবকের লাথিতে চাচার মৃত্যু

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় তুচ্ছ ঘটনার জেরে ফাহাদ হোসেন নামের এক যুবকের লাথিতে আনোয়ার হোসেন...

নাগরপুরে আনসার ও ভিডিপির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক এর পক্ষ থেকে এবং...

কুড়িগ্রামে তিন পুত্রসন্তানের জননীকে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়া কল্পনা বেগম ও তাঁর পরিবারের পাশে...