আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সোনার খনি ধসে অন্তত ৮২ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানটি বর্তমানে দেশটির প্রভাবশালী প্যারা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাহিনীটির এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানান, ঠিক কতজন খনির ভেতর আটকা পড়ে আছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সেখানে অত্যন্ত ধীরগতিতে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এই খনি ধসের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় কয়েক ডজন শ্রমিক খনির গভীরে কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত টানা অভিযান চালিয়ে মোট ৮২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা শ্রমিক খায়ের আল সায়েদ জাবারা জানান, সারারাত তারা নিজেদের সাধারণ সরঞ্জাম দিয়েই উদ্ধার কাজ চালানোর চেষ্টা করেছেন। তবে বিশাল পাথর ও বিপুল পরিমাণ মাটি সরানোর জন্য সেখানে কোনো ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় উদ্ধার তৎপরতা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সুদান সেনাবাহিনী এবং প্যারা-সামরিক আরএসএফ-এর মধ্যে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ে। ব্যাপক বেকারত্বের মুখে দেশটির হাজার হাজার যুবক কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই এসব অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ হাতুড়ে সোনার খনিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্তমানে গৃহযুদ্ধের বিশাল অর্থের বড় একটি অংশ যোগান আসছে অবৈধভাবে পরিচালিত এসব সোনার খনি থেকে।
সালাউদ্দিন/সাএ


