দুবাই, মধ্যপ্রাচ্য, মিশর ও সুয়েজ ক্যানেল অঞ্চলের বাংলাদেশের নাবিকদের ভিসা সমস্যার সমাধানে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৩য় তলায় মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খা হলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশন এর উদ্দোগে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও অনেক নাবিক, ক্রু, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সেক্টরের পেশাজীবি উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বক্তারা জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মার্চেন্ট মেরিনার বা মেরিন অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ারদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী। একজন দক্ষ মেরিন অফিসার বা ইঞ্জিনিয়ার প্রায় ৫০ জন সাধারণ বা অদক্ষ শ্রমিকের সমান বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম। বাংলাদেশি মেরিনাররা প্রতি বছর প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ কোটি মার্কিন ডলার (USD 650 – 700 Million) আয় করেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে প্রায় ১৬,০০০ বাংলাদেশি মেরিনার কর্মরত আছেন, যার মধ্যে প্রায় ১১,০০০ জন অফিসার এবং ৫,০০০ জন সাধারণ ক্রু। যেকোনো সময় গড়ে অন্তত ৭,০০০ মেরিনার সার্বক্ষণিকভাবে সমুদ্রগামী জাহাজে দায়িত্ব পালনরত থাকেন।
আমাদের প্রথম ও প্রধান দাবি: দুবাই, মধ্যপ্রাচ্য, মিশর ও সুয়েজ ক্যানেল অঞ্চলে ভিসা সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে। আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নাবিক নির্ধারিত সময়ে জাহাজে যোগ দিতে ব্যর্থ হলে জাহাজ মালিককে বিকল্প নাবিক নিয়োগ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই দেশের শ্রমবাজারে চলে যাচ্ছে। বিকল্প নাবিক অন্য দেশের নাগরিক হয়ে থাকেন। ফলে বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের সুযোগ সরাসরি অন্য দেশের হয়ে যায়।
আমাদের উদ্বেগের প্রধান বিষয়গুলো হলো:
• UAE-তে প্রবেশ, ট্রানজিট ও ক্রু পরিবর্তনের অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা ।
• মিশরের ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ অপেক্ষা এবং নির্ধারিত সময়ে অনুমোদন না পাওয়ার সমস্যা।
প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা
• পোর্ট সাঈদ ও সুয়েজ খাল অঞ্চলে জাহাজে যোগদান এবং দায়িত্ব শেষে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে
• ভিসা বিলম্বের কারণে নিশ্চিত নিয়োগ থাকা সত্ত্বেও নাবিকদের নির্ধারিত সময়ে জাহাজে যোগদান করতে না পারা ।
দুবাইয়ে জাহাজ কোম্পানিগুলোতে কয়েক শত মেরিন অফিসার, ইঞ্জিনিয়ার এবং রেটিং সাইন অফ, সাইন অন করতে পারছে না। বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স হারাচ্ছে। ফিলিপাইন এবং ভারতের ভিসার ব্যবস্থা আছে বাংলাদেশীদের জন্যও সেই সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরী। নাবিকদের যেমন ইউরোপ, আমেরিকা এবং আরব দেশগুলোতে “অন এরাইভাল এবং ওকেটু বোর্ড”
বাংলাদেশি নাবিকদের crew joining, crew change, transit I sign-off-এর জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা ও entry permission সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে: UAE/Dubai, Egypt, Suez Canal region, Singapore, Middle East, European maritime hubs সহ গুরুত্বপূর্ণ crew-change দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও গুরুত্বপূর্ণ কনস্যুলেটকে কার্যকর সমন্বয় করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ maritime hub-এ বাংলাদেশি নাবিকদের বিষয় হলো-নাবিকের ship joining visa I crew change সমস্যা সমাধানে জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। এখানে একটি visa তাই সংশ্লিষ্ট দেশের maritime/immigration কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিশেষ crew visa বা seafarer facilitation arrangement নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন ।
সরকার চাইলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি, প্রশিক্ষণ প্ৰতিষ্ঠান, shipowners এবং seafarers representatives-কে নিয়ে একটি জাতীয় কর্মসূচি করতে পারে। এর অধীনে-বাংলাদেশের দূতাবাস ও High Commission গুলোর Commercial/ Labour Wing-কে শুধু সাধারণ শ্রমবাজারের দিকে না তাকিয়ে Seafarer Visa Facilitation Desk” স্থাপন করতে হবে।প্রধান maritime hub-গুলোতে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে একজন করে Maritime Councillor নিয়োগ করা যেতে পারে।
এর উদ্দেশ্য হবে:
জরুরি visa সমস্যা গ্রহণ;
• embassy I immigration authority-এর সঙ্গে যোগাযোগ;
• Visa rejection-এর কারণ চিহ্নিত করা;
• stranded seafarer-এর সমস্যা সমাধান;
crew change I repatriation সহায়তা ।
নাবিক বিদেশে গিয়ে যদি- visa আটকে যায়; airport/port immigration সমস্যা হয়; joining করতে না পারেন; employer-এর সঙ্গে সমস্যা হয়; salary আটকে যায়; জাহাজে আটকে পড়েন; repatriation সমস্যা হয়; document হারিয়ে ফেলেন; তাহলে Maritime Councilor এর সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।
আমরা চাই আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের প্রশিক্ষিত নাবিকদের ন্যায্য সুযোগ।বাংলাদেশের নাবিকরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী জাহাজে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতেন ভূমিকা রাখছেন। এখন প্রয়োজন তাদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের দরজা আরও উন্মুক্ত করা। UAE, Egypt I Suez Canal অঞ্চলের মতো গুরুত্বপূর্ণ মেরিটাইম প্রবেশদ্বারে তাদের চলাচল ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হওয়া মানে বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় বৈদেশিক আয়ের খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া । আমরা কোনো দেশের অভিবাসন নীতির প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করতে চাই না। আমরা চাই পারস্পরিক সহযোগিতা, কার্যকর কূটনৈতিক সমাধান এবং বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ভিসা ও ক্রু পরিবর্তন ব্যবস্থা।
আমরা আশা করি, সরকার বিষয়টিকে জাতীয় অর্থনীতি ও মেরিটাইম শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বাপ্পি/সা.এ


