বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহের চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে ১৮টি কোচ পাঠিয়েছে ভারতীয় রেলওয়ে। গত ১২ অক্টোবর ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে কোচগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।
২০২৪ সালের ২০ মে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক সার্ভিসেস লিমিটেডের (রাইটস) সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের ২০০টি লিংকে-হফম্যান-বুশ (এলএইচবি) ব্রডগেজ কোচ সরবরাহের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৯ অক্টোবরের মধ্যে কোচগুলো সরবরাহ, পরীক্ষণ ও চালুর কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথম চালানে পাঠানো ১৮টি কোচের মধ্যে রয়েছে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কার, তিনটি এসি চেয়ার কার, দুটি এসি স্লিপার কার এবং দুটি এসি পাওয়ার কার। পাওয়ার কার দুটিতে গার্ডের কক্ষ ও মালপত্র রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশের গেদে-দর্শনা আন্তদেশীয় রেল সংযোগ দিয়ে কোচগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। পরে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে হস্তান্তরের পর ভারতীয় রেলওয়ের একটি কারিগরি দল সৈয়দপুর ওয়ার্কশপে কোচগুলোর প্রস্তুতি ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
যাত্রীদের সুবিধায় থাকছে আধুনিক প্রযুক্তি
ভারতের কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে তৈরি কোচগুলো বাংলাদেশের রেলওয়ের পরিচালনব্যবস্থা ও যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। এতে রয়েছে একাধিক অবস্থানে হেলানো যায় এমন আসন, স্টেইনলেস স্টিলের হাতল এবং পায়ের বিশ্রামের ব্যবস্থা।
কোচগুলোর কাঠামোতে স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে চলার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোচগুলোতে দুর্ঘটনার অভিঘাত মোকাবিলার বিশেষ ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং সিসিটিভি নজরদারির সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বায়ো-টয়লেট ও ইলেকট্রো-নিউম্যাটিক চাপযুক্ত ফ্লাশিং ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা
রেলওয়ে সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কোচ সরবরাহের ভিত্তিতে ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা ব্রডগেজ রুটে দুটি নতুন আন্তনগর ট্রেন চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে রেল যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে।
সম্প্রতি সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, একটি প্রকল্পের আওতায় ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। কোচগুলো দেশে আসার পর নতুন ট্রেনের রুট নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে যমুনা সেতু-পাবনা, ঢাকা-পদ্মা সেতু এবং খুলনা-মোংলা রেলপথসহ বেশ কয়েকটি রেলপথ চালু হয়েছে। তবে ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের সংকটের কারণে এসব পথে পর্যাপ্ত ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়নি। ভারত থেকে ২০০টি কোচ সরবরাহ সম্পন্ন হলে নতুন রেলসেবা চালুর ক্ষেত্রে এ সংকট কিছুটা কমতে পারে।
এর আগে রাইটসের কাছ থেকে কোচ-লোকোমোটিভ সংগ্রহ
বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে রাইটসের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে ৩০টি এবং ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর আরও ১০টি ব্রডগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সরবরাহ করে। পরে ২০১৮ সালের ১ জুন ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ কোচ সরবরাহ করা হয়।
এসব লোকোমোটিভ ও কোচ ভারত সরকারের ঋণসহায়তার আওতায় বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছিল। এবার নতুন ২০০টি কোচ যুক্ত হলে দেশের ব্রডগেজ রেলসেবার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
কুশল/সাএ


