Homeসর্বশেষশিশুর গলায় মাছের কাঁটা ফুটলে ভাতের দলা খাওয়ানো কি নিরাপদ?

শিশুর গলায় মাছের কাঁটা ফুটলে ভাতের দলা খাওয়ানো কি নিরাপদ?

Published on

spot_img

মাছ খাওয়ার সময় শিশুর গলায় কাঁটা আটকে যাওয়া বেশ সাধারণ একটি ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ভাতের দলা, পাউরুটি বা কলা খাইয়ে কাঁটা নামানোর চেষ্টা করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের ঘরোয়া পদ্ধতি সবসময় নিরাপদ নয়; বরং এতে কাঁটা আরও গভীরে ঢুকে গিয়ে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

তাই শিশুর গলায় মাছের কাঁটা ফুটলে আতঙ্কিত না হয়ে কী করা উচিত এবং কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি—সে বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

ভাত, পাউরুটি বা কলা খাইয়ে কাঁটা নামানোর চেষ্টা করবেন না

গলায় কাঁটা আটকে গেলে জোর করে ভাতের দলা, পাউরুটি বা কলা গিলতে দিলে কাঁটাটি আরও ভেতরে সরে গিয়ে গলার টিস্যুতে আটকে যেতে পারে। এতে গলার ভেতরে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই এমন অবস্থায় শিশুকে জোর করে কিছু খাওয়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত।

লেবুর রস বা ভিনেগারও সমাধান নয়

অনেকের ধারণা, লেবুর রস বা ভিনেগার খেলে মাছের কাঁটা গলে যায়। কিন্তু এ ধারণার পক্ষে বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই। বরং এসব পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা নিতে দেরি হলে সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

আঙুল বা কোনো সরঞ্জাম দিয়ে খোঁচাখুঁচি করবেন না

গলার ভেতর আঙুল, চামচ বা অন্য কোনো বস্তু ঢুকিয়ে কাঁটা বের করার চেষ্টা করা বিপজ্জনক। এতে কাঁটা আরও গভীরে ঢুকে যেতে পারে এবং গলার ভেতরের অংশে আঘাত লাগতে পারে।

কাঁটা ফুটলে কী করবেন?

শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকলে এবং সে কাশতে পারলে তাকে স্বাভাবিকভাবে কয়েকবার কাশতে দিন। অনেক সময় কাশির মাধ্যমে আটকে থাকা কাঁটা নিজে থেকেই বের হয়ে আসে। তবে শিশুকে জোর করে কাশতে বাধ্য করা উচিত নয়। অস্বস্তি অব্যাহত থাকলে বা কাঁটা বের না হলে ঘরোয়া উপায়ে বারবার চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

সবসময় কাঁটা আটকে থাকে না

অনেক সময় মাছের কাঁটা নিচে নেমে যাওয়ার পরও গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি থাকতে পারে। কারণ কাঁটা যাওয়ার সময় গলার ভেতরের নরম টিস্যুতে সামান্য আঁচড় বা ক্ষত তৈরি হতে পারে। এ ধরনের অস্বস্তি কিছু সময় স্থায়ী হলেও ধীরে ধীরে কমে আসার কথা। উপসর্গ কমছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। এ সময় কোনো ধরনের ঘরোয়া টোটকা প্রয়োগ না করাই ভালো।

 কখন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে?

গলায় মাছের কাঁটা ফোটার পর নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া উচিত—শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, মুখ দিয়ে রক্ত পড়া, তীব্র বা ক্রমবর্ধমান ব্যথা, অতিরিক্ত লালা ঝরা, গলা বা ঘাড় ফুলে যাওয়া, অস্বস্তি দীর্ঘ সময় ধরে না কমা ইত্যাদি।

বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে গলায় কাঁটা আটকে আছে বলে সন্দেহ হলে নিজে থেকে বের করার চেষ্টা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ।

শিশুর গলায় মাছের কাঁটা ফুটলে আতঙ্কিত হয়ে ভাতের দলা গিলিয়ে দেওয়া বা গলার ভেতরে কিছু ঢুকিয়ে কাঁটা বের করার চেষ্টা করা উচিত নয়। পরিস্থিতি শান্তভাবে পর্যবেক্ষণ করা, ঝুঁকিপূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতি এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদক্ষেপ।



বাপ্পি/সা.এ

Latest articles

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতিসহ বিশিষ্টজনদের শোক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর...

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদের উৎস জানতে চেয়ে হাসনাতের প্রশ্ন 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পুরোনো দুর্নীতি মামলা, সম্পদের পরিমাণ...

পলাতক আ.লীগের তৎপরতার কোনো সুযোগ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন...

আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জামায়াত আমিরের

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে...

More like this

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতিসহ বিশিষ্টজনদের শোক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর...

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদের উৎস জানতে চেয়ে হাসনাতের প্রশ্ন 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পুরোনো দুর্নীতি মামলা, সম্পদের পরিমাণ...

পলাতক আ.লীগের তৎপরতার কোনো সুযোগ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন...