Homeসর্বশেষমধুমতীকে ‘শাসন’ নয়, স্বাভাবিক প্রবাহে চায় আলফাডাঙ্গার মানুষ

মধুমতীকে ‘শাসন’ নয়, স্বাভাবিক প্রবাহে চায় আলফাডাঙ্গার মানুষ

Published on

spot_img

এক তীর রক্ষায় অন্য তীর যেন ভাঙনের মুখে না পড়ে—দাবি স্থানীয়দের ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতী নদী শাসন বা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে কৃত্রিম হস্তক্ষেপ করা হলে স্রোতের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে আলফাডাঙ্গার চরখোলাবাড়ীয়া ও চরমাকড়াইল এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিতে পারে। এতে ঝুঁকিতে পড়তে পারে কৃষিজমি ও বসতভিটা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার চরখোলাবাড়ীয়া ও চরমাকড়াইল এলাকার দক্ষিণ সীমানায় মধুমতী নদীর তীরে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন স্থানীয়রা। ‘আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরখোলাবাড়ীয়া মৌজার দক্ষিণ সীমানায় নদী শাসন প্রতিরোধ প্রসঙ্গে’ লেখা ব্যানার নিয়ে তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন। মানববন্ধনে স্থানীয়রা বলেন, মধুমতী নদী তার নিজস্ব গতিপথে প্রবাহিত হলে পানি ও স্রোতের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় থাকে। কিন্তু নদী শাসনের নামে বাঁধ, ব্লক বা অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করে প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হলে স্রোতের চাপ অন্যদিকে সরে যেতে পারে। এর ফলে যে এলাকা রক্ষার জন্য প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, তার বিপরীত তীর বা আশপাশের এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘নদীভাঙনে আমাদের অনেক জমি ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে। এখনো ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটে। নদীর স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন করা হলে আমাদের এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হতে পারে।’

স্থানীয় কৃষক আলম হাদী বলেন, ‘চরমাকড়াইল ও চরখোলাবাড়ীয়া এলাকায় নদী শাসন করা হলে মধুমতীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। স্রোত ঘুরে আলফাডাঙ্গার অংশে আঘাত করলে নতুন করে ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

কৃষক জামাল বলেন, ‘আমরা নদীভাঙন চাই না, আবার নদী শাসনের কারণে নতুন ভাঙনের ঝুঁকিও নিতে চাই না। কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে নদীর গতিপথ, পানির প্রবাহ ও স্রোতের গতিবিধি নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে সমীক্ষা করা প্রয়োজন।’

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল শেখ বলেন, ‘এক জায়গা রক্ষা করতে গিয়ে অন্য জায়গার মানুষ ভাঙনের শিকার হোক—এটা আমরা চাই না। মধুমতীকে তার প্রাকৃতিক গতিতে চলতে দিতে হবে। মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষায় নদীর গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’

এলাকাবাসীর দাবি, নদী শাসন কিংবা স্থায়ী কোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মধুমতীর গতিপথ, স্রোতের প্রবাহ ও দুই তীরের ভৌগোলিক পরিস্থিতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি সমীক্ষা করুক। এক এলাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন অন্য এলাকার মানুষ নতুন করে নদীভাঙনের শিকার না হন—এমন পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।



সালাউদ্দিন/সাএ

Latest articles

দুই প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার দিলেন তারেক খাঁন

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী তারেক খাঁনের উদ্যোগে স্বাভাবিকভাবে...

শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত অডিটোরিয়াম ভবন উদ্বোধন

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত অডিটোরিয়াম ভবন উদ্বোধন ও উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের ভিত্তিপ্রস্তর...

পঞ্চগড়ে প্রান্তিক শিশুদের জন্য পাঠ্যক্রমভিত্তিক স্কুল সিলেবাস

পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়া উপজেলায় পাঠ্যক্রম ভিত্তিক নাট্য ভাবনায় সিলেবাস থিয়েটার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (২১...

বিপিএম-সেবা পদক পেলেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক

পেশাগত দক্ষতা, নিষ্ঠা, সাহসিকতা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত মামলার রহস্য উদঘাটন, জননিরাপত্তা...

More like this

দুই প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার দিলেন তারেক খাঁন

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী তারেক খাঁনের উদ্যোগে স্বাভাবিকভাবে...

শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত অডিটোরিয়াম ভবন উদ্বোধন

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত অডিটোরিয়াম ভবন উদ্বোধন ও উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের ভিত্তিপ্রস্তর...

পঞ্চগড়ে প্রান্তিক শিশুদের জন্য পাঠ্যক্রমভিত্তিক স্কুল সিলেবাস

পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়া উপজেলায় পাঠ্যক্রম ভিত্তিক নাট্য ভাবনায় সিলেবাস থিয়েটার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (২১...