জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাকসুর পক্ষ থেকে উপাচার্যের নিকট লিখিত দাবি জানায় জাকসুর কার্যকরী সদস্য নাবিলা বিনতে হারুন। এসময় জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম ও কার্যকরী সদস্য আবু তালহা উপস্থিত ছিলেন।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অনেক নারী শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু ক্যাম্পাসে শিশুদের জন্য উপযুক্ত ডে-কেয়ার সুবিধা না থাকায় তাদের একদিকে একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া এবং অন্যদিকে সন্তানদের যথাযথ যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ফলে একজন নারী শিক্ষার্থীকে যেন উচ্চশিক্ষা ও মাতৃত্বের মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে না হয়, সে লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও শিশু-বান্ধব ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের দাবি জানানো হয়।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডে কেয়ার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিলেও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি।
এপ্রসঙ্গে জাকসুর কার্যকরী সদস্য নাবিলা বিনতে হারুন বলেন, “২০২৬ সালে এসেও যদি একজন নারীকে শিক্ষা ও মাতৃত্বের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হয়, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। মাতৃত্ব একজন নারীর জীবনের স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো নারীকে যেন মাতৃত্ব ও উচ্চশিক্ষার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে না হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
তিনি আরও বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই জাকসু নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ডে-কেয়ার সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা জানতে পারি, প্রস্তাবিত ডে-কেয়ার সেন্টারে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে ডে-কেয়ার সুবিধার আওতায় আনার” কথাও বলেন নাবিলা।
এ বিষয়ে জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, “একজন নারী শিক্ষার্থী যেন মাতৃত্বের কারণে তার উচ্চশিক্ষা থামিয়ে দিতে বাধ্য না হন, এটি নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বের অংশ। ডে-কেয়ার শুধু একটি শিশু দেখাশোনার ব্যবস্থা নয়, এটি নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, মাতৃত্ব ও ক্যাম্পাসজীবনকে সমন্বয় করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ডে-কেয়ার সুবিধা চালু হবে, সেখানে নারী শিক্ষার্থীদেরও সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হোক এবং তাদের প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিয়ে একটি নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক।”
তিনি আরও বলেন, “জাকসু মনে করে, প্রয়োজনে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রশিক্ষিত জনবল, শিশুদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। তবে যে কোনো উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, নারী শিক্ষার্থীরা যেন সন্তান লালন-পালনের দায়িত্বের পাশাপাশি নির্বিঘ্নে তাদের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারেন।”
“নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে” বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন জাকসু জিএস মাজহার।
কুশল/সাএ


