Homeসর্বশেষবিয়ে কি ফরজ-নাকি সুন্নত? জানুন শরিয়তের ব্যাখ্যা

বিয়ে কি ফরজ-নাকি সুন্নত? জানুন শরিয়তের ব্যাখ্যা

Published on

spot_img

বিয়ে শুধু সামাজিক বন্ধন নয়; ইসলামে এটি পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। দাম্পত্য জীবনের মাধ্যমে মানুষ প্রশান্তি লাভ করে, নিজের চরিত্র ও পবিত্রতা রক্ষা করে এবং পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। তবে প্রশ্ন হলো—ইসলামে বিয়ে কি সবার জন্য ফরজ, নাকি সুন্নত?

শরিয়তের দৃষ্টিতে সবার জন্য বিয়ের বিধান এক নয়। ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, যৌন চাহিদা এবং হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করে বিয়ের হুকুম ভিন্ন হতে পারে।

কখন বিয়ে ওয়াজিব?

কোনো ব্যক্তির স্বাভাবিক বা প্রবল যৌন চাহিদা থাকলে এবং বিয়ে না করলে জিনা, ব্যভিচার বা অন্য কোনো হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলে তাঁর জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব।

অর্থাৎ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এমন পরিস্থিতিতে বিয়ে থেকে বিরত থাকা গুনাহের কারণ হতে পারে।

কখন বিয়ে সুন্নতে মুয়াক্কাদা?

যাঁর শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাভাবিক যৌন চাহিদা রয়েছে এবং যিনি নিজেকে হারাম কাজ থেকে বিরত রাখতে সক্ষম, তাঁর জন্য বিয়ে সুন্নতে মুয়াক্কাদা। বিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ।

কখন বিয়ে মুবাহ বা জায়েজ?

কারও যদি যৌন চাহিদা না থাকে—যেমন বার্ধক্য, জন্মগত অক্ষমতা বা কোনো শারীরিক জটিলতার কারণে—এবং বিয়ে না করলেও হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা না থাকে, তাহলে তাঁর জন্য বিয়ে না করাও জায়েজ হতে পারে।

অর্থাৎ, শরিয়তে বিয়ের বিধান নির্ধারণে ব্যক্তির পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কোরআনে বিয়ের তাগিদ

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ এবং তোমাদের সৎকর্মশীল দাস ও দাসীদের বিয়ে দাও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছলতা দান করবেন।’—সুরা আন-নুর, আয়াত ৩২

এ আয়াতে সামর্থ্য অনুযায়ী অবিবাহিত নারী-পুরুষের বিয়ের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

নবীজি (সা.) কী বলেছেন?

রাসুলুল্লাহ (সা.) যুবকদের উদ্দেশে বলেছেন, যাদের বিয়ের সামর্থ্য রয়েছে তারা যেন বিয়ে করেন। কারণ বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখতে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজতে সহায়তা করে। আর যার বিয়ের সামর্থ্য নেই, তাকে রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
—সহিহ বুখারি: ৫০৬৬; সহিহ মুসলিম: ১৪০০

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিয়েকে তাঁর সুন্নাহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। —ইবনে মাজাহ: ১৮৪৬

তাহলে সারাজীবন অবিবাহিত থাকা?

ইসলামে অকারণে বৈরাগ্য গ্রহণ বা চিরকুমার থাকার প্রবণতাকে উৎসাহিত করা হয়নি। তবে এটিকে সবার ক্ষেত্রে সরাসরি হারাম বা কবিরা গুনাহ বলা যায় না। ব্যক্তির অবস্থা ও বিয়ের কারণে সম্ভাব্য কল্যাণ-অকল্যাণ বিবেচনায় শরিয়তের বিধান পরিবর্তিত হতে পারে।

তাই বিয়ে শুধু শারীরিক চাহিদা পূরণের বিষয় নয়; এটি চরিত্র রক্ষা, পারিবারিক শান্তি এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সামর্থ্য ও প্রয়োজন থাকলে সুন্নাহ অনুসরণ করে বিয়ের মাধ্যমে জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করাই ইসলামের শিক্ষা।



বাপ্পি/সা.এ

Latest articles

‘চেয়ারম্যান হলে ঘরে ঘরে ফ্রিতে গাঁজা-ইয়াবা দেব’—পোস্টারে যুবদল নেতা

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুর গ্রামের বিভিন্ন দেয়ালে ‘আমি চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী...

সরকারি চাকরিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন

সরকারি চাকরিজীবীদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত...

বাতিল হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ প্রণোদনা

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চালু করা...

অপরাধের ধরন পাল্টালেও আধুনিক হয়নি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অপরাধের ধরন বদলে গেলেও পুলিশকে এখনও আধুনিকায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী...

More like this

‘চেয়ারম্যান হলে ঘরে ঘরে ফ্রিতে গাঁজা-ইয়াবা দেব’—পোস্টারে যুবদল নেতা

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুর গ্রামের বিভিন্ন দেয়ালে ‘আমি চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী...

সরকারি চাকরিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন

সরকারি চাকরিজীবীদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত...

বাতিল হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ প্রণোদনা

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চালু করা...