শিক্ষার মান সন্তোষজনক নয়—দেশের এমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারের ব্র্যাক সিডিএম সেন্টারে ইউজিসি আয়োজিত ‘ভাইস-চ্যান্সেলরস ডায়ালগ: শেপিং দ্য ফিউচার অব হায়ার এডুকেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশে এমন অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলোর শিক্ষার মান প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই। এসব প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করতে ইউজিসিকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ালেই উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা এবং উপযুক্ত একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কাঙ্ক্ষিত মান বজায় নেই, সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
গবেষণায় বাড়াতে হবে গুরুত্ব
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে না পারলে উচ্চশিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার সুযোগ ও পরিধি আরও বাড়াতে হবে।
তিনি জানান, গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কাজ করছে। এরই মধ্যে শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রমে অর্থসংকট কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম নিয়েও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগ কতটা বাড়ছে, তা ইউজিসিকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। উচ্চশিক্ষার উন্নয়নের সঙ্গে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার ওপর জোর দিতে হবে।
দেশে ফিরতে হবে মেধাবীদের
বিদেশে থাকা মেধাবী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি ‘রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন’-এর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিদেশে শিক্ষা ও গবেষণায় ভালো ফল করছেন। দেশের বাইরে থাকা এসব মেধাবীকে দেশে ফিরিয়ে এনে জাতীয় উন্নয়নে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো প্রয়োজন।
এ সময় বাংলাদেশে পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপচয়ের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে তা বন্ধ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জেড এন তাহমিদা বেগম।
‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ সংলাপে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৬০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অংশ নেন।
বাপ্পি/সা.এ


