বগুড়ার শেরপুর উপজেলার দারুগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের না জানিয়ে গোপনে পরিচালনা কমিটি গঠন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার অসদাচরণ ও দাপ্তরিক কাজে তাঁর স্বামীর অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, গঠিত পকেট কমিটি বাতিল ও শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
আবেদন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের দারুগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ৬৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৫ জন শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ মমতা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে চরম অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি ও তাঁর স্বামী গোপনে কতিপয় লোককে সাথে নিয়ে পরিচালনা (ম্যানেজিং) কমিটি গঠন করেন। বিশেষ করে বিদ্যালয়সংলগ্ন পূর্বপাড়া এলাকার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, গোপনে কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা অভিভাবকদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেন। পরে তাঁর স্বামী বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে হস্তক্ষেপ করে প্রতিবাদকারী অভিভাবকদের ভয়ভীতি দেখান ও হুমকি দেন। শিক্ষিকার এমন আচরণের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও আতঙ্কে রয়েছে। ফলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। অভিভাবকদের দাবি, বর্তমানে বিদ্যালয় পরিচালনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা যেকোনো মুহূর্তে সংঘাতের রূপ নিতে পারে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই পকেট কমিটি বাতিল করে নিয়ম মেনে নতুন কমিটি গঠনের জন্য প্রশাসনের আকুল আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযুক্ত দারুগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ মমতা খাতুন বলেন, অভিযোগ মিথ্যা ভিত্তিহীন, পূর্বপাড়া এলাকার দুজনকে অভিভাবক সদস্য রাখা হয়েছে। আর শিশুদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা প্রশ্নই আসে না। পূর্বপাড়া এলাকার অভিভাবক সদস্য শাহিনুর আক্তার বলেন, আমাকে স্কুলের সদস্য বানিয়েছে আমি নিজেও জানি না। আমার মেয়ের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে শিক্ষিকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি পেয়েছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোহান/সা.এ.


