Homeসর্বশেষযুদ্ধবিরতি নাকি কৌশলগত চাপ? ট্রাম্প আসলে কী চান- বিশ্লেষণ

যুদ্ধবিরতি নাকি কৌশলগত চাপ? ট্রাম্প আসলে কী চান- বিশ্লেষণ

Published on

spot_img

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আপাতত থেমে গেলেও ওয়াশিংটনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই সংকটের অবসান চায়, নাকি কূটনীতিকে আবারও চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে—এমন প্রশ্ন তুলেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি (এমএনএ)।

রোববার (২ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এমএনএ বলেছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অবিশ্বাস, নিষেধাজ্ঞা, অসমাপ্ত আলোচনা এবং পরোক্ষ সংঘাতের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) দুই দেশের মধ্যে সংলাপের একটি পথ তৈরি করলেও ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানো সেই আস্থার ভিত্তি ভেঙে দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান একদিকে সম্ভাব্য চুক্তির কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক হামলার হুমকিও দিচ্ছে। এমএনএর ভাষ্য অনুযায়ী, এ থেকে বোঝা যায় ট্রাম্প প্রশাসন কূটনীতিকে একটি স্বাধীন লক্ষ্য হিসেবে নয়, বরং সামরিক চাপের পরিপূরক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য দ্রুত এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হবে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমবে এবং একটি বিস্তৃত পরমাণু চুক্তির আলোচনা শুরু করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি বহাল রেখে ইরানকে ওয়াশিংটনের কাঙ্ক্ষিত শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করার কৌশলও অনুসরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এমএনএর মতে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আলোচনা মূলত একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। এতে পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়েও নতুন শর্ত আরোপের চেষ্টা থাকতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানের দৃষ্টিতে অতীতের অভিজ্ঞতা—বিশেষ করে জেসিপিওএ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানো—নতুন কোনো আলোচনায় ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাই ভবিষ্যতের যেকোনো সংলাপ কার্যকর ও যাচাইযোগ্য নিশ্চয়তা ছাড়া সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এমএনএ আরও বলেছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধ এখন আর কেবল দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নয়। ইরাক, লোহিত সাগর, জর্ডানসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাব জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, সামরিক চাপ ও কূটনীতিকে একসঙ্গে ব্যবহার করলে টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। বরং পারস্পরিক স্বার্থ, কার্যকর নিশ্চয়তা, সুস্পষ্ট সময়সূচি এবং ধারাবাহিক যোগাযোগের ভিত্তিতে আলোচনা এগোলে তবেই দীর্ঘমেয়াদে উত্তেজনা কমানো সম্ভব হতে পারে।



সাজু/নিএ

Latest articles

চট্টগ্রামে মহিলা বাস সার্ভিস : চালক, হেলপার, সুপারভাইজার ও যাত্রী সবাই নারী

চট্টগ্রাম নগরীতে গণপরিবহনে নারীদের যাতায়াত আরও নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করতে আজ (মঙ্গলবার) থেকে...

এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

রাজস্ব প্রশাসনে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পুরোনো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)...

বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মাসে সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা কমে আসায় মঙ্গলবার টানা তৃতীয় সেশনে...

নাটোরে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৪ মাসের কারাদণ্ড

নাটোরের নলডাঙ্গায় মাদকদ্রব্য সেবনের দায়ে মো. জেন্টু মন্ডল (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে চার...

More like this

চট্টগ্রামে মহিলা বাস সার্ভিস : চালক, হেলপার, সুপারভাইজার ও যাত্রী সবাই নারী

চট্টগ্রাম নগরীতে গণপরিবহনে নারীদের যাতায়াত আরও নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করতে আজ (মঙ্গলবার) থেকে...

এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

রাজস্ব প্রশাসনে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পুরোনো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)...

বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মাসে সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা কমে আসায় মঙ্গলবার টানা তৃতীয় সেশনে...