চট্টগ্রাম নগরীতে গণপরিবহনে নারীদের যাতায়াত আরও নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করতে আজ (মঙ্গলবার) থেকে বিআরটিসির ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু হয়েছে। সম্পূর্ণ নারী দ্বারা পরিচালিত অর্থাৎ বাস গুলোএ চালক, হেলপার, সুপারভাইজার করবেন নারীরা আর এসব নারী বাসের যাত্রীও থাকবেন কেবল নারী৷
নগরীর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এলাকা থেকে ফ্রি পোর্ট হয়ে পতেঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করবে বাস দুটি। পথে ১২টি নির্ধারিত পয়েন্টে যাত্রী ওঠানামা করবেন। এরফলে নগরীর প্রধানমত দুই শিল্প এলাকার মাঝে একটি নারী বান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থার শুভসূচনা হলো।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১২টায় নগরীর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এলাকায় বেলুন উড়িয়ে এ বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘এই সার্ভিসটি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার। তিনি সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করছেন। চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব, সরকার যে উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি শুরু করেছে, নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদভাবে চলাচল করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাসুদ আলমসহ বিআরটিসির কর্মকর্তারা।
প্রাথমিক ভাবে বিআরটিসি’র একটি ডাবল ডেকার বা দোতলা বাস এবং একটি একতলা বাস দিয়ে এই কার্যক্রমের শুভসূচনা করা হলেও পরবর্তীতে যাত্রীর চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে নগরীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতেও এর পরিসর ধাপে ধাপে বিস্তৃত করা হবে বলে জানান বিআরটিসি চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই বিষয়ে বিআরটিসি চট্টগ্রাম বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ম্যানেজার (অপারেশন) কামরুজ্জামান বিডি২৪লাইভ কে বলেন, গোলাপি রঙের এই বিশেষ বাস সার্ভিসটি নগরীর কালুরঘাট এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অতিক্রম করে পতেঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করবে। প্রতিদিন কালুরঘাট থেকে প্রথম বাসটি ছাড়বে সকাল সাড়ে ৭টায়। এরপর আধঘন্টা পর দ্বিতীয় বাস ছাড়বে।
প্রাথমিক ভাবে একটি ডাবল ডেকার বা দোতলা বাস। আর একটি একতলা বাস। ডাবল ডেকার বাসগুলোতে দুটি তলা বা বসার স্তর থাকে। উপরের তলা এবং নিচতলায় সমান ভাবেই যাত্রীরা বসতে পারবেন। এতে দ্বিগুণ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে জানান তিনি।
দীর্ঘদিন যাবৎ নারী বান্ধব গণপরিবহন চালুর জোরালো দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিভিন্ন নারী সংগঠন গুলো। এই সার্ভিস চালুর ফলে নারীদের দীর্ঘদিনের এই দাবী পূরণ হলো৷ তবে সচেতন মহল বলছে, উভয় প্রান্ত থেকে একই সময়ে বাস সার্ভিসটি চালু করা গেলে উপয় প্রান্তের নারী যাত্রীরা সুবিধা পাবে৷
এছাড়া বিআরটিসি সার্ভিসের ম্যান্টেইনেন্সের অভাবের অভিযোগ বেশ পুরনো৷ যথাযথ ম্যান্টেইনেন্সের অভাবে একটা সময় পর এই সার্ভিস যেন দূর্ভোগে পরিণত না হয় সেই বিষয়টির মনিটরিং অতিজরুরী বলে তাঁরা মনে করছেন৷
কুশল/সাএ


