পটুয়াখালীর বাউফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোশাররফ হোসেন (৩০) নামে এক ব্যক্তির বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ সময় ঘরে থাকা দুটি গরু, ছয়টি ছাগল, হাঁস-মুরগি ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। একই সঙ্গে গরু-ছাগল বিক্রি করে বোন ও নিজের বিয়ের জন্য ১০-১২ বছরে তিল তিল করে জমানো প্রায় সাত লাখ টাকাও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলালিংক টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, কৃষিকাজের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গরু-ছাগল পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। আগে অটোরিকশা চালাতেন। ব্যাটারি চুরি হয়ে যাওয়ায় পরে সেটি বিক্রি করে দেন। এরপর গরু-ছাগল পালন করে যা আয় করেছেন, তা থেকে ধীরে ধীরে টাকা জমিয়েছিলেন।
তিনি বলেছেন, আমার বয়স যখন এক বছর, তখন বাবা মারা যান। এরপর মা ও বোনকে নিয়ে আমাদের সংসার। গত ১০-১২ বছরে পাঁচটি গরু ও ৪০টির বেশি ছাগল বিক্রি করে প্রায় সাত লাখ টাকা জমিয়েছিলাম। আমার নিজের বিয়ে ও বোনের বিয়ের জন্য টাকাগুলো রেখেছিলাম। ব্যাংকে টাকা রাখিনি, ঘরেই রেখেছিলাম। কিন্তু আগুনে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের দুটি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, ঘরের আসবাবপত্র সব পুড়ে গেছে। এখন আমি নিঃস্ব।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও সঞ্চয়ে গড়ে তোলা স্বপ্ন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
বাউফল ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ছাব্বির আহমেদ বলেছেন, সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিটে আমরা অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই। সঙ্গে সঙ্গে দুটি গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে রওনা হই। সেখানে পৌঁছে আগুন দাউদাউ করে জ্বলতে দেখি। পরে পানি পাম্প করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি এবং আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনি।
তিনি আরও বলেছেন, ঘটনার সময় ঘরে কেউ ছিলেন না। দুটি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।


