বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হতে ভারত থেকে আনা ২০০টি ব্রডগেজ (বিজি) প্যাসেঞ্জার ক্যারেজের প্রথম চালানের ১৮টি কোচ চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে কোচবাহী রেকটি স্টেশনে পৌঁছালে বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা কোচগুলো গ্রহণ করেন। নতুন কোচগুলো বহরে যুক্ত হলে পশ্চিমাঞ্চলে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি সেবার মান উন্নত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ২০০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় ভারতের রাইটস লিমিটেড (RITES Limited) এসব কোচ সরবরাহ করছে। ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত ১২ অক্টোবর রাত ১২টা ১৫ মিনিটে প্রথম চালানের কোচগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
শুক্রবার দুপুরে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর কোচ গ্রহণের কার্যক্রমে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ভারতীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেডের পক্ষে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শুভজিৎ ঘোষের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল।
বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পাকশীর বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসিনা খাতুন, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ, পাকশীর আরএনবি কমান্ড্যান্ট রেজানুর রহমান, বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম এবং দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মামুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (ডিএমই) মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, ২০০টি কোচের মধ্যে প্রথম চালানের ১৮টি কোচ শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কোচগুলো রেলওয়ের বহরের জন্য অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত। এগুলো যুক্ত হলে পশ্চিমাঞ্চলে যাত্রীসেবা বাড়বে এবং রেলওয়ের আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রথম চালানের ১৮টি কোচের মধ্যে রয়েছে দুটি এসি স্লিপার, তিনটি এসি চেয়ার কোচ, ১১টি নন-এসি চেয়ার কোচ এবং দুটি পাওয়ার কার।
কোচগুলোর প্রাথমিক চলাচল পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, চলার সময় কোচগুলোর গতিবিধি বেশ ভালো মনে হয়েছে। এ সময় কোনো অস্বাভাবিক শব্দও পাওয়া যায়নি। কোচগুলোর মান ও চলাচল নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা বন্দরে কোচ খালাসের কার্যক্রম শেষে সেগুলো সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় ডিপ্রসেসিং, কমিশনিং ও ট্রায়াল রান সম্পন্ন করা হবে। এ জন্য লোকোমোটিভ, প্রয়োজনীয় ক্রু, টুলভ্যানসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মামুনুর রশিদ জানান, ২০০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজের প্রথম চালানের ১৮টি কোচ শুক্রবার দুপুরে দর্শনা স্টেশনে পৌঁছেছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর কোচগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে পাঠানো হবে। বাকি কোচগুলোও পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে আসবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, নতুন কোচগুলো রেলওয়ের বহরে যুক্ত হলে যাত্রীদের ভ্রমণ আরও আরামদায়ক হবে। একই সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে এবং রেলওয়ের সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কুশল/সাএ


