Homeসর্বশেষপেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি করায় ৩৪৪ কোটি টাকা জরিমানা

পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি করায় ৩৪৪ কোটি টাকা জরিমানা

Published on

spot_img

ফিলিপাইনে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ছয়টি কোম্পানিকে ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন পেসো জরিমানা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৪৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পেঁয়াজ আমদানিকারক, সংরক্ষণ ও পরিবহন খাতের এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে যোগসাজশের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিপাইন কম্পিটিশন কমিশন (পিসিসি) বুধবার জানায়, ২০১৬ সালে কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটিই তাদের আরোপ করা সবচেয়ে বড় জরিমানা। কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে পেঁয়াজ আমদানি, হিমাগারে সংরক্ষণ এবং পাইকারি বিতরণে অবৈধভাবে বাজার ভাগাভাগির পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

২০২২ সালে ফিলিপাইনে পেঁয়াজের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়। দেশটির রান্নায় বহুল ব্যবহৃত এই সবজির দাম প্রতি কেজি ৮০০ পেসোতে ওঠে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৫৬০ টাকা। ওই দাম দেশটির দৈনিক ন্যূনতম মজুরিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং মাংসের দামের চেয়েও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তৎকালীন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের ওপর চাপ তৈরি করে। খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা মার্কোস সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেন। একই সঙ্গে পেঁয়াজের সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

২০২২ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২৩ সালের শুরুর কয়েক মাসে দেশটিতে পেঁয়াজের সংকট এতটাই তীব্র হয় যে বিভিন্ন রেস্তোরাঁর খাবারের তালিকা থেকেও পেঁয়াজ বাদ পড়ে। এ সময় পেঁয়াজ চোরাচালানের চেষ্টার ঘটনাও সামনে আসে। এমনকি পেঁয়াজের দাম এত বেড়ে যায় যে এক অনুষ্ঠানে এটিকে বিয়ের ফুলের তোড়া হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়। পরে ২০২৩ সালে স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন বাজারে আসতে শুরু করলে সংকট কমে এবং দাম স্থিতিশীল হয়।

ফিলিপাইন কম্পিটিশন কমিশনের দাবি, অভিযুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে পাওয়া প্রমাণে দেখা গেছে, ছয়টি প্রতিষ্ঠান ২০২০ ও ২০২১ সালে পেঁয়াজ আমদানির জন্য অনুমোদিত ছাড়পত্রের প্রায় ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে আমদানি, হিমাগারে সংরক্ষণ এবং পাইকারি বিতরণে অবৈধভাবে বাজার ভাগাভাগির পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

কমিশন জানিয়েছে, এই জরিমানা অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে কার্টেল বা যোগসাজশের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ভোক্তাদের সুরক্ষায় তাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। পাশাপাশি অভিযুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে দেশটির বিচার বিভাগের মাধ্যমে ফৌজদারি মামলাও হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি ও ফিলিপাইন কম্পিটিশন কমিশন (পিসিসি)।



সাজু/নিএ

Latest articles

যশোরে শংকরপুরে অভিযান চালিয়ে ৮টি ককটেল সদৃশ্য বোমা উদ্ধার

যশোর শহরের শংকরপুরে অভিযান চালিয়ে ৮টি ককটেল সদৃশ্য বোমা উদ্ধার করেছে এসআরবি-৬, সিপিসি-৩...

মেসির নামে ফুল, পাপড়ি আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে

ফুটবল মাঠের বাইরে এবার প্রকৃতির জগতেও ছড়িয়ে পড়ল লিওনেল মেসির নাম। পেরুর আন্দিজ...

ধর্মীয় পরিচয় নয়, নাগরিক অধিকারই বড় কথা: কৃষিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয় যা-ই...

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় দুর্নীতি: মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া

দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় দুর্নীতি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর...

More like this

যশোরে শংকরপুরে অভিযান চালিয়ে ৮টি ককটেল সদৃশ্য বোমা উদ্ধার

যশোর শহরের শংকরপুরে অভিযান চালিয়ে ৮টি ককটেল সদৃশ্য বোমা উদ্ধার করেছে এসআরবি-৬, সিপিসি-৩...

মেসির নামে ফুল, পাপড়ি আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে

ফুটবল মাঠের বাইরে এবার প্রকৃতির জগতেও ছড়িয়ে পড়ল লিওনেল মেসির নাম। পেরুর আন্দিজ...

ধর্মীয় পরিচয় নয়, নাগরিক অধিকারই বড় কথা: কৃষিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয় যা-ই...