বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি তৈরি হলে শত্রুরা তাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় নার্স দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। ইরানের সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
পেজেশকিয়ান বলেন, “বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র কোনো জাতিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারে না। তবে আমরা যদি নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ি, তাহলে শত্রুরা তাদের লক্ষ্য অর্জন করবে।”
ইরানের শক্তি ও জাতীয় ঐক্য দুর্বল করতে শত্রুপক্ষ দেশের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, পরিবহন ও যোগাযোগের পথে বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন উপায়ে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। তবে এসব চাপের মুখেও দৃঢ় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির জনগণ।
পেজেশকিয়ান বলেন, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের সংকট, জ্বালানি সমস্যা, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, ব্যাংকিং খাতের জটিলতা, বাজেট ঘাটতি এবং পেনশন তহবিলের সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে ইরানের সমাজে বিভক্তি তৈরি করা যাবে বলে শত্রুপক্ষ ধারণা করেছিল। কিন্তু জনগণের সহনশীলতা ও সংহতি সেই প্রত্যাশাকে ভুল প্রমাণ করেছে।
এ সময় দেশের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কঠিন পরিস্থিতিতেও দায়িত্ব পালন করা নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ত্যাগের প্রশংসা করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।
তিনি কর্মকর্তাদের জাতীয় ঐক্য ক্ষুণ্ন হতে পারে—এমন বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জনগণের আস্থা বাড়াতে সব ধরনের সম্পদ ও সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সাজু/নিএ


