মোংলায় নিখোঁজের প্রায় দুই মাস পর নাকফুল ও একই থান কাপড়ের প্যান্টের নকশার সূত্র ধরে আসমা বেগম (৩৯) নামে এক নারীর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের একজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন খুলনার দাকোপ উপজেলার লাউডোব এলাকার মৃত নুরুল শেখের ছেলে ইকরামুল শেখ (৪০) এবং ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দেলুটিয়া এলাকার মৃত মোজাফফর হাওলাদারের ছেলে মো. মীর আলী (৪৮)। মীর আলী বর্তমানে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছাড়াবাড়ি এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট মোংলা ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আসমা বেগম। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের ছয় দিন পর, ২০ আগস্ট খুলনার বটিয়াঘাটা থানাধীন কাজিবাছা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে রূপসা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
মরদেহ উদ্ধারের পর নৌ পুলিশের মাধ্যমে প্রচারিত ছবি ও তথ্যের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে মোংলা থানা পুলিশ। একপর্যায়ে নিখোঁজ আসমা বেগমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহের পরনে থাকা প্যান্টের ছবি দেখানো হয়। ছবিটি দেখে পরিবারের সদস্যরা প্যান্টটির রং ও নকশার সঙ্গে তাঁদের বাসায় থাকা আরেকটি প্যান্টের হুবহু মিল খুঁজে পান।
পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, প্যান্ট দুটি একই থান কাপড় থেকে তৈরি করা হয়েছিল। এ ছাড়া মরদেহের নাকে থাকা নাকফুল দেখে স্বজনেরা সেটি আসমা বেগমের বলে শনাক্ত করেন। এভাবেই নাকফুল ও প্যান্টের সূত্র ধরে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হয়।
পুলিশ আরও জানায়, পরিচয় শনাক্তের পর গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ইকরামুল শেখ ও মো. মীর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ইকরামুল শেখ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরে ইকরামুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁর হেফাজত থেকে নিহত আসমা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
নিহত আসমা বেগম মোংলা উপজেলার মালগাজী এলাকার আব্দুল জবেদ আলীর মেয়ে। তিনি মোংলা বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি চায়ের দোকান চালাতেন। তাঁর ১৭ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ৯ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চায়ের দোকানে যাতায়াতের সুবাদে ইকরামুল শেখ ও মীর আলীর সঙ্গে আসমা বেগমের পরিচয় হয়েছিল। তাঁরা ওই দোকানের নিয়মিত গ্রাহক ছিলেন। আসমা বেগমের প্রতি তাঁদের অসৎ উদ্দেশ্য ছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানান মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম।


