দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ব্যক্তিগত পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্রের নতুন লাইসেন্স দেওয়ার কার্যক্রম আবার শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসককে নতুন লাইসেন্সের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় জমা পড়া আবেদন পর্যালোচনা ও আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে *টাইমস*। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকদের কাছে নতুন আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন যাচাইয়ের নির্দেশনা পাঠানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-৪ শাখার উপসচিব আবেদা আফসারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, যশোর, খুলনা, নরসিংদী ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলার আগ্নেয়াস্ত্র শাখায় ছোট ও বড় অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে কয়েক শ আবেদন জমা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর এসব আবেদন যাচাই-বাছাই এবং আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের নতুন লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে আগের সরকারের সময়ে ইস্যু করা লাইসেন্সগুলো পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন নতুন লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ থাকায় আগ্নেয়াস্ত্র আমদানিকারক ও বিক্রেতাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশ আর্মস ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। পরে সরকার নতুন আবেদন যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়।
সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক তানভীর আহমেদ জানান, দীর্ঘ সময় নতুন লাইসেন্স বন্ধ থাকায় অস্ত্রের বেচাকেনা কমে গিয়েছিল এবং অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সংকটে পড়ে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীদের নির্ধারিত বয়স, আয়কর প্রদান এবং নিরাপত্তা যাচাইসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার অভিযোগপত্র থাকলে তিনি লাইসেন্স পাওয়ার অযোগ্য হবেন। দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাজা শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময় পার হওয়ার শর্তও রয়েছে।
এ ছাড়া আবেদনকারীর আয়করসংক্রান্ত নথি, পুলিশের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার যাচাইয়ের ভিত্তিতে আবেদন বিবেচনা করা হবে। বড় অস্ত্রের লাইসেন্সের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন এবং ছোট অস্ত্রের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার ঠেকানো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রকৃত প্রয়োজন ও আবেদনকারীর যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, শুধু লাইসেন্স প্রদান করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; লাইসেন্সধারীরা কীভাবে অস্ত্র ব্যবহার করছেন, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়ালে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।
প্রতিবেদনে পুলিশের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, দেশে ব্যক্তিপর্যায়ে নিবন্ধিত ৪৮ হাজার ২৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। নির্বাচনের আগে জমা দেওয়ার নির্দেশের পরও ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই এবং অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাপ্পি/সা.এ


