মিরপুরের রূপনগর থানার দুয়ারীপাড়ায় সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকার ব্লক ক ও খ, সেকশন-৮-এর সরকারি প্লট ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে দখল ও চাঁদাবাজি চলছে। গভীর রাতে ইট, বালু ও টিন দিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, প্লটের ভেতরে সাইনবোর্ড স্থাপন, ইটের দেয়াল ও গেট নির্মাণ এবং ২০ ফুট রাস্তার ওপর অ্যাঙ্গেল দিয়ে ওয়েল্ডিং করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকার প্লট, বাড়ি, ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম শামসুজ্জামান।এই সময় রাজধানীর মিরপুরের সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) বরাদ্দকৃত প্লট, রাস্তা ও প্রকল্পের জমি দখল এবং প্লট মালিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেন। দখলদার ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্লট, বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিকরা।
লিখিত বক্তব্যে শামসুজ্জামান অভিযোগ করেন, বর্তমানে প্লট দখলের পাশাপাশি ভবন নির্মাণের সময়ও প্লট মালিকদের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণ শ্রমিকদের হুমকি, মারধর ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় অর্ধশত প্লট মালিক চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১৮ জুলাই একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার সময় কয়েকজন চাঁদাবাজের সঙ্গে রূপনগর থানার এসআই আসাদুলসহ দুই পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ড্যাফোডিল হোমস লিমিটেডের নির্মাণাধীন প্রকল্পে গিয়ে হুমকি দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান থানায় লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন। এ ছাড়া একটি আনসার ক্যাম্পও দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সমিতির সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে সালাউদ্দিন শিপু মোল্লা, আমজাদ হোসেন মোল্লা, জাকির হোসেন শান্ত, শিহাব উদ্দিন, জামাল উদ্দিন ওরফে লম্বা জামাল, আব্দুল হক, নজরুল ইসলামসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন এই দখল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রকল্পের খ-ব্লকের পূর্ব পাশে ৪০ ফুট প্রশস্ত রাসহ প্রায় ৯০ কাঠা জায়গা অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। সেখানে রিকশার গ্যারেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় মাদক ব্যবসা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ কে এম শামসুজ্জামান বলেন, দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মিরপুর কার্যালয় থেকে রূপনগর থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ১৮ জুলাইয়ের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরা হয়। অভিযোগ করা হয়, ওইদিন কয়েকজন চাঁদাবাজ পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ড্যাফোডিল হোমস লিমিটেডের একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে গিয়ে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে।
প্লট মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, একাধিক অভিযোগ ও জিডি করার পরও যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে দখলদার ও চাঁদাবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। তিনি অবৈধ দখল উচ্ছেদ, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং প্লট মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সালাউদ্দিন/সাএ


