বর্ষা এলেই সড়কজুড়ে জমত পানি। কোথাও কাদা, কোথাও তৈরি হতো বড় বড় গর্ত। হাঁটাচলা তো দূরের কথা, জরুরি প্রয়োজনে রোগী কিংবা বয়স্ক কাউকে নিয়ে বের হওয়াও হয়ে উঠত দুর্ভোগের। দীর্ঘদিন এমন ভোগান্তির মধ্যেই চলছিল কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোনারপাড়া-বসুন্ধরা এলাকার বাসিন্দাদের।
অবশেষে সেই ভোগান্তির অবসানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন কাঁচা ও বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা গ্রামীণ সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। সড়কে ইট দিয়ে ডাবল ব্রিক সলিংয়ের কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোদেস্তা বেগম রীনার উপস্থিতিতে সড়কটির ডাবল ব্রিক সলিং কাজের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ত। বৃষ্টির পানি জমে বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হতো গর্ত ও কাদা। এতে স্কুল-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হতো জরুরি রোগী, বয়স্ক ও শিশুদের নিয়ে চলাচলের সময়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে অল্প দূরত্বের পথ পাড়ি দিতেও অতিরিক্ত সময় লাগত। সড়কটি সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী। অবশেষে কাজ শুরু হওয়ায় তাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর আলম বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সড়কটির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডাবল ব্রিক সলিংয়ের কাজ শেষ হলে সড়কটি দিয়ে মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে।
দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোদেস্তা বেগম রীনা বলেন, সড়কের কাজ শেষ হলেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হবে। এতে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হবে এবং সড়কটি টেকসই হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, শুধু ইটের সলিং করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সড়কটির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে বর্ষা মৌসুমে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে বলে আশা করছেন তারা।
বাপ্পি/সা.এ


