সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে ২১ জেলে অপহরণের ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জিম্মি জেলেরা কোথায় এবং কী অবস্থায় রয়েছেন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অপহৃত জেলেদের পরিবার ও মহাজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া অন্য জেলেদের মধ্যেও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।
দস্যুদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না। পরবর্তীতে পেশাগত ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতেও অনীহা প্রকাশ করছেন।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন জানিয়েছে, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দস্যু ও জেলেদের অবস্থান শনাক্ত করতে আকাশপথে আধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি নৌপথে কোস্ট গার্ডের একাধিক দল সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। জেলেদের নিরাপত্তায় বন বিভাগের টহলও জোরদার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়া, ভদ্রা ও ভাঙ্গা এলাকায় বনদস্যু মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী হামলা চালিয়ে ২১ জেলেকে অপহরণ করে। দস্যুরা এ সময় একটি মাছ ধরার ট্রলার, পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপহৃত জেলেদের মহাজনরা জানিয়েছেন, জেলেদের মুক্তির বিষয়ে দস্যুদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন তারা। নিরাপত্তার কারণে মুক্তিপণ হিসেবে কী পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়েছে, তা প্রকাশ করেননি তারা। মহাজনদের দাবি, জেলেদের মুক্তি নিয়ে দস্যুদের সঙ্গে দর-কষাকষি চলছে। দাবি করা অর্থ পরিশোধ করা হলে জেলেদের ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে দস্যুরা এবং দ্রুত টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এদিকে, অপহরণের ঘটনায় সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া সাধারণ জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই দস্যু আতঙ্কে বনে যেতে দ্বিধা করছেন। তাদের দাবি, সুন্দরবনে দস্যুদের তৎপরতা বন্ধ করে জেলেদের নিরাপদে মাছ ধরার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, অপহৃত জেলেদের এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেদের রাতে দলবদ্ধভাবে এবং সংশ্লিষ্ট বন অফিসের আশপাশে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগের সব স্টেশন, টহল ফাঁড়ি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত বনরক্ষীদের জেলেদের নিরাপত্তায় টহল বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুশল/সাএ


