যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি ক্রিস্টা পাইকের। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি। তিনি বলেন, পাইকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা বা সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। তবে তিনি জীবিত আছেন বলে নিশ্চিত করেন আইনজীবী।
৫০ বছর বয়সী পাইককে ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। গত বুধবার টেনেসির একটি কারাগারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়।
পাইকের আইনজীবীদের দাবি, তাকে পেন্টোবারবিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আইনজীবী স্পাইভি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পাইকের শরীরে আইভি লাইন স্থাপনের জন্য প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার বাম হাতে অন্তত সাতবার সূঁচ ব্যবহার করা হয়। একটি সূঁচ বের করার সময় সেটি বাঁকা অবস্থায় ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
স্পাইভির ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কয়েক মিনিট পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছিলেন। এ সময় পর্যবেক্ষকদের একটি বন্ধ পর্দার আড়ালে রাখা হয়। পর্দার আড়ালে কখন চিকিৎসা সহায়তা শুরু হয়েছিল, তা তারা জানতে পারেননি বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর পাইকের আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছেন। পাশাপাশি আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
তদন্তের নির্দেশ গভর্নরের
ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তদন্তটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে করা হবে এবং এতে সময় লাগবে।
একই সঙ্গে চলতি বছরের বাকি সময় টেনেসিতে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন গভর্নর। এর আওতায় আগামী ৩ ডিসেম্বর গ্যারি সাটনের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও স্থগিত হয়েছে।
তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় রাজ্যের অনুমোদিত ও আইনসম্মত প্রোটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়াও নির্ধারিত প্রোটোকলের অংশ ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
টেনেসি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ও স্বাধীন তদন্তের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি জানা প্রয়োজন।
একই বছরে দ্বিতীয় ব্যর্থ চেষ্টা
২০২৬ সালে টেনেসিতে এটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দ্বিতীয় ব্যর্থ প্রচেষ্টা। এর আগে গত মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। তার শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় শিরা খুঁজে না পাওয়ায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে এক বছরের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
কুশল/সাএ


