জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও গ্যাসের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দেশে জ্বালানি সংগ্রহে সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, জ্বালানি কেনার পরও তা দেশে আনা সম্ভব না হওয়া এবং ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ)–এ আগুন লাগার ঘটনাও সরবরাহে বিলম্বের অন্যতম কারণ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প উৎস খুঁজে নিতে কিছুটা সময় লেগেছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিভিন্ন জটিলতা ও দুর্ঘটনা কাটিয়ে বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহের লাইন স্বাভাবিক হয়েছে। দেশে জ্বালানি আসছে এবং সরবরাহের সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানেও এ ধরনের সাময়িক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি ও দুর্ঘটনার কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে বর্তমানে জ্বালানি দেশে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেনি। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে বেশি দাম দিয়েও গ্যাস আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, সামনে নতুন কোনো সমস্যা তৈরি না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেই কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ নেওয়ায় দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন বলেও জানান মন্ত্রী।
জনগণ যাতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আর ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
কুশল/সাএ


