সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয় ও পরবর্তীতে ইমুতে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে দেখা করতে গিয়ে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাজু গাজীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর মা।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পূর্ব দিনারা গ্রামের ওই কিশোরীর সঙ্গে সখিপুর থানার চারভাগা শনি কান্দি গ্রামের সুলতান গাজীর ছেলে রাজু গাজীর (২১) প্রায় তিন মাস ধরে টিকটক ও ইমুর মাধ্যমে যোগাযোগ ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত সোমবার উপজেলার ডিঙ্গামানিক গোলারমাঠ এলাকায় দেখা করতে গেলে রাজু তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে একদিন আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরদিন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ঢাকায় নিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে কিশোরী বিয়ের কাবিননামার জন্য চাপ দিলে রাজু তাকে এলাকায় ফিরিয়ে এনে বাড়ির পাশের সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। উল্টো রাজুর পরিবারকে বিষয়টি জানালে তারা বিয়ে করতে অস্বীকার করে এবং মামলা করলে ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকি দেয়। ভুক্তভোগী পরিবার সখিপুর থানায় আইনি সহায়তার জন্য গেলে পুলিশ তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত রাজু গাজীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। উল্টো সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান করে তারা।
এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রোহান/সা.এ.


