বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় সজিনা গাছের পাতা প্রতিবেশীর বাড়িতে পড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারের চারজন এবং অভিযুক্ত পক্ষের একজন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ফুলকোট উত্তরপাড়া এলাকায়।
শনিবার রাতে চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগী আবু সাঈদ বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সজিনা গাছের পাতা পড়াকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের জের ধরে অভিযুক্ত মজিদ, ফারুক ও রাজিবসহ প্রায় ১২ জন ধারালো চাকু, রামদা, লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটামসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের বসতবাড়িতে হামলা চালায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে গালিগালাজ ও ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় বাড়ির লোকজন বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে বাদী মো. আবু সাঈদ (৪৮), তাঁর ছোট ভাই খোকন (১৮), জীবন (১৬) ও মিলন (১২) এলোপাতাড়ি মারধরে গুরুতর জখম হন। আহতদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁদের বৃদ্ধা নানি রহিমা বেগম (৭০) ও মা জোসনা বেগমকেও পিটিয়ে জখম করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা ঘরের টিনের বেড়া, আসবাবপত্র ও ফ্রিজসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেছে। এছাড়া ঘর থেকে নগদ দুই লাখ ২২ হাজার টাকা লুটপাট ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে শাজাহানপুর উপজেলার খরনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযুক্ত প্রতিবেশীদের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে ভুক্তভোগী পক্ষই প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালায়। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, মজিদ, ফারুক ও রাজিবদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বললেই তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়, যে কারণে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হন না।
এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক খান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সালাউদ্দিন/সাএ


