কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকলেও প্রকাশ্যেই চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পের বিভিন্ন সড়কে এসব যানবাহন চলাচল করছে। এরই মধ্যে দুটি সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন ক্যাম্প-১৮-এর এফ/৩০ ব্লকের ত্রিমুখী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রোহিঙ্গার নাম মোহাম্মদ হাশিম (৩৪)। তিনি ক্যাম্প-১৭-এর এইচ/৭৫ ব্লকের বাসিন্দা। তার বাবার নাম নুর আলম। এফসিএন নম্বর ১০৩৬৪১।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সকালে ক্যাম্প-১৮-এর এফ/৩০ ব্লকের ত্রিমুখী সড়কে দুটি সিএনজি চলাচলের সময় সংঘর্ষ হয়। এতে দুই গাড়িতে থাকা যাত্রী ও চালকদের মধ্যে নয়জন আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ক্যাম্পসংলগ্ন এমএসএফ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মদ হাশিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তিনি মারা যান।
জানা গেছে, কিছু সংখ্যক সিএনজি ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ রয়েছে। বিশেষ করে অনুমোদনহীন সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি থাকার কথা। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে ক্যাম্পের বিভিন্ন সড়কে নিয়মিত সিএনজি চলাচল করছে। এসব যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে এপিবিএনের কিছু সদস্যকে নিয়মিত মাসোহারা দেওয়া হয়। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ক্যাম্পের ভেতরে সিএনজি চলাচল বন্ধ হচ্ছে না।
তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো সড়কে দিনের পাশাপাশি রাতেও সিএনজি চলাচল করে। এতে ক্যাম্পের সরু ও ব্যস্ত সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। শনিবারের দুর্ঘটনাকেও তারা অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের ফল হিসেবে দেখছেন।
ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের এপিবিএন এর ইন্সপেক্টর মো. নাহিদ বলেন, ‘ক্যাম্প-১৮-এর এফ/৩০ ব্লকে দুটি সিএনজির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা গেছেন। বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ক্যাম্পের ভেতরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিএনজি চলাচল এবং এ জন্য এপিবিএনের কোনো সদস্যকে মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাসোহারা নিয়ে অবৈধভাবে সিএনজি চলাচলের অভিযোগ সঠিক নয়। এ ধরনের কোনো বিষয় আমাদের জানা নেই।’
রোহান/সা.এ.


