সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এ হারে মুনাফা দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।
দুপুরে অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। আলোচ্যসূচি অনুযায়ী সভা পরিচালনা করেন বোর্ডের সদস্য সচিব ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।
সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি গ্রাহকদের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফা প্রদানের বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ছিল।
আলোচনা শেষে মুনাফার হার বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের হিসাবে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ হারে মুনাফা যুক্ত হবে।
এ ছাড়া পেনশনারের মৃত্যুর পর তার নমিনিকে ৭৫ বছরের পরিবর্তে ৮০ বছর পর্যন্ত পেনশন দেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় ইসলামিক ভার্সন চালুর প্রস্তাবও গুরুত্ব পায়। প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চার স্কিমের শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ন্যূনতম পাঁচ বছর চাঁদা জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত শর্তে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
গ্রাহক নিবন্ধন বাড়াতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে দেওয়া কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাবও সভায় আলোচিত হয়। একই সঙ্গে ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কমিশন নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
অন্যদিকে, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় স্বাস্থ্যবীমা চালুর বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আগের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং পেনশন ব্যবস্থাকে আরও টেকসই, কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব করতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় অর্থ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুশল/সাএ


