ঘাড় শক্ত লাগলেই ডান-বাঁ দিকে ঘুরিয়ে ‘কট’ করে শব্দ বের করা অনেকের অভ্যাস। এতে সাময়িক আরাম মিললেও বারবার ইচ্ছা করে ঘাড় মটকানো ভালো অভ্যাস নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিকভাবে মাঝে মধ্যে ঘাড়ে শব্দ হওয়া সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে জোর করে ঘন ঘন ঘাড় মটকালে জয়েন্ট, পেশি ও আশপাশের নরম টিস্যুতে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
ঘাড়ের কশেরুকাগুলোর মধ্যে ছোট ছোট জয়েন্ট রয়েছে। এসব জয়েন্টে থাকা সাইনোভিয়াল তরল ও চাপের পরিবর্তনের কারণে নড়াচড়ার সময় ‘পপ’ বা ‘কট’ শব্দ হতে পারে। টেন্ডন ও লিগামেন্টের নড়াচড়াতেও এমন শব্দ শোনা যায়। তাই ঘাড়ে শব্দ হওয়া মানেই হাড় সরে গিয়ে আবার ঠিক জায়গায় বসেছে—এমন ধারণা ঠিক নয়।
বারবার ঘাড় মটকালে কী হতে পারে?
ঘন ঘন ও জোর করে ঘাড় মটকানোর ফলে ঘাড়ের জয়েন্ট ও আশপাশের টিস্যুতে অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়তে পারে। এর ফলে দেখা দিতে পারে— ঘাড়ে ব্যথা বা শক্তভাব, পেশিতে টান, কাঁধে ব্যথা, হাতে ব্যথা বা ঝিনঝিনি, হাত অবশ বা দুর্বল লাগা। তবে ঘাড়ে ‘কট’ শব্দ হওয়া মানেই এসব সমস্যা হচ্ছে, এমন নয়। মূল বিষয় হলো অতিরিক্ত জোর প্রয়োগ এবং বারবার ঘাড় মটকানোর অভ্যাস।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কি সত্যিই আছে?
খুব বিরল ক্ষেত্রে হঠাৎ বা অতিরিক্ত জোরে ঘাড় নাড়ানোর সঙ্গে cervical artery dissection বা ঘাড়ের গুরুত্বপূর্ণ ধমনির দেয়ালে ক্ষত তৈরির সম্পর্ক থাকতে পারে। এতে রক্ত জমাট তৈরি হয়ে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে স্ট্রোক হতে পারে। তবে ঘাড় মটকালেই স্ট্রোক হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
কোন লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসা নেবেন?
ঘাড় মটকানোর পর হঠাৎ নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না—তীব্র ও অস্বাভাবিক ঘাড় বা মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো, হাত-পায়ের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা বা দ্বৈত দেখা, হাঁটতে বা শরীরের ভারসাম্য রাখতে সমস্যা ইত্যাদি। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
তাহলে ঘাড় মটকানোর বদলে কী করা যায়?
ঘাড়ের অস্বস্তি কমাতে বারবার মটকানোর বদলে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করুন। দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় বসে থাকবেন না। প্রতি কিছুক্ষণ পর উঠে হাঁটুন। মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহারের সময় ঘাড় অতিরিক্ত নিচু করে রাখবেন না। সঠিক ভঙ্গিতে বসুন এবং হালকা স্ট্রেচিং ও ঘাড়-কাঁধের ব্যায়াম করতে পারেন। তবে ঘাড়ে নিয়মিত ব্যথা, শক্তভাব, ঝিনঝিনি বা অবশভাব থাকলে নিজে থেকে ঘাড় মটকানোর বদলে চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
মনে রাখুন, মাঝে মধ্যে ঘাড়ে স্বাভাবিকভাবে শব্দ হওয়া সাধারণত চিন্তার বিষয় নয়। কিন্তু আরামের জন্য বারবার জোর করে ঘাড় মটকানো অভ্যাসে পরিণত করা ঠিক নয়।
বাপ্পি/সা.এ


