যশোরের বেনাপোলে ২১ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত শফিয়ার রহমান শফির আটকের সংবাদ প্রকাশের জেরে যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্পন্দনের বেনাপোল প্রতিনিধি শেখ কাজিম উদ্দিনকে ফোন করে মামলা ও কৈফিয়ত দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ০১৫৩৩-৮৯৫৩৮৯ নম্বর থেকে ওই নারী সাংবাদিক শেখ কাজিম উদ্দিনকে ফোন করেন। এ সময় তিনি শফিয়ার রহমান শফির গ্রেপ্তারের সংবাদ কেন প্রকাশ করা হয়েছে, তার কৈফিয়ত দাবি করেন এবং সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান।
ফোনে ওই নারীর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজের পরিচয় না দিয়ে ‘মামলার কপিতে দেখা হবে’ বলে হুঁশিয়ার করেন। পরে জানা যায়, একই নম্বর থেকে শফির আটকের সংবাদ প্রকাশকারী স্থানীয় আরও কয়েকজন সাংবাদিককেও ফোন করে একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বেনাপোলের সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পরিচয় গোপন রেখে সাংবাদিকদের মামলা ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে-কে এই নারী, আর শফিয়ার রহমান শফির সঙ্গে তার সম্পর্ক কী?
এর আগে বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে বেনাপোল বাজার এলাকা থেকে শফিয়ার রহমান শফি (৫৫)কে গ্রেপ্তার করে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ। তিনি বেনাপোল পোর্ট থানার দুর্গাপুর গ্রামের মৃত হাফিজুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ২১ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে শফিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়। ওই মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার বাদী ও আরবি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির স্বত্বাধিকারী এইচ এম আবুল বাশার জানান, ভারত থেকে বৈধভাবে আমদানি করা পণ্যের ভ্যাট-ট্যাক্স সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধের জন্য কমিশনের ভিত্তিতে শফিয়ার রহমান তার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২১ লাখ টাকা নেন। কিন্তু প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হলেও তিনি ওই টাকা পরিশোধ করেননি। পরে পাওনা টাকা আদায়ে আদালতে মামলা করা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে শফিয়ার রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে যশোরের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সাংবাদিক শেখ কাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং পুলিশ ও মামলার সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের কারণে ফোন করে মামলা ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন।’# ইয়ানূর রহমান ০১৭১২৭৯৭৬০২
সাজু/নিএ


