ফেসবুকে হলের খাবার নিয়ে সমালোচনামূলক স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থীকে মানসিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে হলটির প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রাধ্যক্ষ। এ ঘটনায় তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া, সহকারী প্রক্টর ড. এনামুল হক সজীব এবং সহকারী প্রক্টর মীর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আলী। কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফজলুল হক মুসলিম হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আল আমীন সিকদার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীম ফজলুল হক মুসলিম হলের খাবারের মান নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি হল প্রাধ্যক্ষের সমালোচনাও করেন। পরে তাকে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে নিয়ে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ইব্রাহীম।
রোববার রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইব্রাহীম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এর পরপরই একদল শিক্ষার্থী হল প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে এতে ডাকসু, হল সংসদ ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরাও যোগ দেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিও জানান।
একপর্যায়ে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধরা। তাকে উদ্ধারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হল সংসদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাং পিলারের সঙ্গে আঘাত লাগার ঘটনাও ঘটে। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেন।
ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবিদ হাসনাত বলেন, ‘ইলিয়াস আল মামুন স্যার যদি দোষী হয়ে থাকেন, তাহলে তার বিচার ও পদত্যাগ অবশ্যই চাই। তবে তার আগে পুরো ঘটনার কারণ উদঘাটন করতে হবে। বিভিন্ন ধরনের মবের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। এছাড়া বিভিন্ন হল থেকে শিবির ও হল সংসদের নেতারা ফজলুল হক হলে এসে মব করেছে।’
এদিকে ঘটনার পর হল অফিস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদ ও শিক্ষার্থীরা। সোমবার সরেজমিনে হল অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তিন দফা দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে এসব দাবি নিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, ফুটেজ পর্যালোচনায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রাধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বহিষ্কার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা হলে সেটিকে অভিযোগ আড়ালের চেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
বিচার না হলে কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ডাকসুর
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। সোমবার ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদের সই করা এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। এতে শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
প্রাধ্যক্ষের বিচার ও শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় ব্যবস্থা চায় ছাত্রদল
শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রাধ্যক্ষের বিচার এবং মব করে শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ফজলুল হক মুসলিম হল শাখা ছাত্রদল। সোমবার বিকেলে দুই দফা দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি।
প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ চার দফা দাবি শিবিরের
প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ ও শাস্তিসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ ও শাস্তি, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বহিষ্কার, হামলায় জড়িত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিচার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
সাজু/নিএ


