চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামীত এলাকায় জমি বিক্রির কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় করা মামলায় রবিউল হাসান ওরফে মিন্টু ও নিশান বড়ুয়া নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অনুসন্ধানে জানা গেছে ঘটনার সাথে জড়িত আরও একাধিক ব্যক্তির নাম৷
এই ঘটনায় মামলার পরদিন রবিউল হাসান নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) নিশান বড়ুয়া নামের আরও একজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে জমি বিক্রির কথা বলে হাটহাজারী সড়কের ঝাড়ুয়ার দিঘীরপাড়ে চাঁদনী সিনেমা হলের মোড় এলাকায় ওয়ালটন শোরুমের পাশে সুলাইমান কোম্পানির একটি দোতলা ভবনে ব্যবসায়ী গাজী মোহাম্মদ আইয়ুব খানকে (৬৬) ডেকে নেওয়া হয়। পূর্বপরিচিত কয়েকজন তাঁকে সেখানে নিয়ে যান।
এজাহারে বলা হয়, ভবনটির নিচতলার একটি কক্ষে তাঁকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। এ সময় তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্টে থাকা ৭০ হাজার টাকা ও নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সেগুলো অনলাইনে প্রকাশ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ১২ অক্টোবর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন ওই ব্যবসায়ী। মামলায় শহিদুল ইসলাম সাহেল ওরফে সাহেদ, রবিউল হাসান ওরফে মিন্টুসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩৮৪ ও ৩৮৫ ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ও ৮(২) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ জনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। টাকা নেওয়া ও অন্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সালাউদ্দিন/সাএ


