ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না বলে আবারও স্পষ্ট করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলো মিথ্যা। একই সঙ্গে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দেশটিকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার চেষ্টা ব্যর্থ হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে জীববৈচিত্র্যবিষয়ক কনভেনশনের পক্ষগুলোর ১৭তম সম্মেলনের ফাঁকে জর্জিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি নিষিদ্ধ করার অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে না। দেশটির বিরুদ্ধে অপপ্রচারকে মিথ্যা বলেও অভিহিত করেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তাঁর দেশ সব সময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে আলোচনার নামে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা সফল হবে না। শত্রুরা মনে করে, চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে নতি স্বীকার করানো সম্ভব; কিন্তু জবরদস্তির কাছে ইরান মাথা নত করবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, এসব পদক্ষেপ মানবিক নীতির পরিপন্থী। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের ওপর চালানো হামলাগুলোকেও তিনি ‘অযৌক্তিক ও অমানবিক’ বলে বর্ণনা করেন।
বৈঠকে ইরান ও জর্জিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পর্যটন সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়সীমাসহ একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন।
জবাবে জর্জিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জর্জিয়ার সুস্পষ্ট অবস্থান রয়েছে। তিনি দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেন।
ইরান ও জর্জিয়ার সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক সাদৃশ্যের কথা উল্লেখ করে কোবাখিদজে বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা। অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে পারস্পরিক সমঝোতা বাড়াতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সহযোগিতা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাজু/নিএ


