সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.০৯ ডলার বা ১.১ শতাংশ কমে ৯৮.১৬ ডলারে নেমেছে। আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৫০ ডলার বা ১.৬৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৯.০১ ডলারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই ধরনের তেলের দামই টানা ছয় সেশন ধরে কমছে এবং বর্তমানে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হওয়ার ক্ষেত্রে ‘অনেক গতি’ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিউইয়র্কে বৈঠকের খবরও তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কঠোর বক্তব্য ও হুমকি অব্যাহত থাকলেও ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনাকে তেলের দামে বিবেচনায় নিচ্ছেন।
এদিকে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার আশা তৈরি হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সৌদি আরব মঙ্গলবার পাইপলাইনটি পুনরায় চালু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহে যুদ্ধের প্রভাব পড়ার পর রিয়াদ পাইপলাইনটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাচ্ছে। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।
সৌদি আরব মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত বিভিন্ন স্থাপনা থেকে এশিয়ার শোধনাগারগুলোর জন্য অতিরিক্ত তেল সরবরাহের প্রস্তাবও দিয়েছে।
ইরাকও তেল রপ্তানি বাড়াচ্ছে। দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরাক প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করছে। তুরস্কের মাধ্যমে রপ্তানি ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি করার পরিকল্পনাও রয়েছে দেশটির।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়ে যাওয়াও দাম কমার চাপ বাড়িয়েছে। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৮ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। অথচ রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টি তুলে ধরে কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বর্তমানে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাজারের মনোভাব বেশি ইতিবাচক।
সাজু/নিএ


