বলিউডের ‘বাদশা’ শাহরুখ খানের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আজমির শরিফের একটি পুরোনো স্মৃতি। তারকা হওয়ার আগেই অসুস্থ মায়ের জন্য দোয়া চাইতে আজমির শরিফে গিয়েছিলেন শাহরুখ। সেখানেই পাঁচ হাজার রুপি হারানোর পর এক ফকির তাকে বলেছিলেন, একদিন তিনি ৫০০ কোটি রুপি আয় করবেন।
ঘটনাটি বহু বছর আগের। তখনও বলিউডে প্রতিষ্ঠিত হননি শাহরুখ। মায়ের জন্য দোয়া করতে আজমির শরিফে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিল দরগাহে দেওয়ার জন্য একটি চাদর। নিরাপদে রাখার জন্য মা তাকে পাঁচ হাজার রুপি দিয়েছিলেন।
কিছুক্ষণ পর শাহরুখ বুঝতে পারেন, টাকাগুলো তার কাছে নেই। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে দরগাহে বসে থাকা এক ফকির তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কিছু হারিয়েছেন কি না। এরপর ওই ফকির জানতে চান, হারানো টাকার পরিমাণ পাঁচ হাজার রুপি কি না।
বিষয়টি শাহরুখকে বিস্মিত করেছিল। কারণ, তিনি কাউকে টাকার কথা জানাননি। এরপর ওই ফকির তাকে বলেন, তিনি খালি হাতে ফিরবেন না। পাঁচ হাজার রুপি হারালেও একদিন তিনি ৫০০ কোটি রুপি আয় করবেন।
২০১৪ সালে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ সিনেমার প্রচারের সময় শাহরুখ নিজেই এই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সবসময় এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী বা অলৌকিক ঘটনায় বিশ্বাস করতেন না। অনেক ঘটনাকেই তিনি কাকতালীয় হিসেবে দেখেছেন। তবে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ওই অভিজ্ঞতা তাকে ভাবিয়েছিল।
শাহরুখের কাছে ঘটনাটির গুরুত্ব শুধু অর্থের ভবিষ্যদ্বাণীতে সীমাবদ্ধ ছিল না। সেদিন আজমির শরিফে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্যই ছিল অসুস্থ মায়ের জন্য প্রার্থনা করা। তার মা লতিফ ফাতিমা খান ১৯৯১ সালে মারা যান—শাহরুখের চলচ্চিত্রজীবনে বড় সাফল্য আসার আগেই। ফলে আজমির শরিফের সেই সফর সময়ের সঙ্গে তার মায়ের স্মৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে যায়।
শাহরুখ পরে জানিয়েছেন, জীবনে তিনি বিপুল অর্থ ও খ্যাতি পেয়েছেন। তবে আজমির শরিফে যাওয়ার উদ্দেশ্য কখনোই অর্থ পাওয়া ছিল না; মায়ের জন্য প্রার্থনাই ছিল মূল বিষয়। তার কাছে মায়ের আশীর্বাদ ও আজমির শরিফের স্মৃতি এখনও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
আজমির শরিফে রয়েছে সুফি সাধক খাজা মইনুদ্দিন চিশতির দরগাহ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পরিচিত এই ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নিয়মিত জিয়ারত ও প্রার্থনা করতে যান।
এদিকে শাহরুখ খানের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ সেই কথিত ভবিষ্যদ্বাণীর অঙ্ককে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা, বিজ্ঞাপন ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ থেকেও তিনি বিপুল সম্পদ গড়েছেন। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টের বরাত দিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার ৮০০ কোটি রুপি উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অর্থের হিসাবের চেয়েও আজমির শরিফের সেই পুরোনো ঘটনাটি শাহরুখের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে অন্য কারণে। পাঁচ হাজার রুপি হারানোর সেই ঘটনা তার কাছে শেষ পর্যন্ত শুধু অর্থের গল্প নয়; বরং মাকে ঘিরে এক আবেগময় স্মৃতি এবং জীবনের এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।
বাপ্পি/সা.এ


