দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক উত্থান ছিল দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল। ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও রাজনীতির প্রতি আগ্রহ থেকে ১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি।
১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার নির্বাচনী রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। পরে আশির দশকে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ সাংগঠনিক পথ পেরিয়ে ২০০৯ সালে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে মহাসচিবের দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল।
বিএনপির কঠিন রাজনৈতিক সময়ে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা, মামলা ও কারাবরণের মুখোমুখি হন তিনি। ২০১৩ সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির ঢাকা মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কয়েকটি মামলায় আসামি করা হয়।
এর আগে ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। পরে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশের আসনে বসতেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেও সক্রিয় ছিলেন মির্জা ফখরুল। এবার বিএনপির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার পথে এগিয়ে গেলেন তিনি।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যক্তিজীবনে রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাদের দুই মেয়ে—মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।
রাজনীতির মাঠের কর্মী থেকে পৌরসভা চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, বিএনপির মহাসচিব—দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল। তার এই উত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাজু/নিএ


