নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিতে হামলা হয়েছে। এতে ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক কিরন হোসেন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে জামায়াত। গত ২৩ অক্টোবর রাত ১০ টায় কেন্দুয়া পৌর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই দিন বিকেলে সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুবায়ের হাসান ইমনের সঙ্গে কিরন হোসেনের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।
পরে উপজেলা জামায়াতের সভাপতি সাদেকুল ইসলামের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।ভুক্তভোগী কিরন হোসেন অভিযোগ করেছেন, একই দিন বিকেলে জামায়াতের মেয়র পদপ্রার্থী রাব্বি ভূঁইয়ার গণসংযোগে বাধা দেওয়া হয়। রাতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে মুজাহিদুল ও কিরনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পরও তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, ১৩ ও ১৫ অক্টোবর সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কিরনের দেওয়া দুটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরেই বিরোধের সূত্রপাত।
ওই পোস্টে চাঁদাবাজি, মাদক, জমি দখল ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ তুলে সংসদ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি। উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, “আমরা লক্ষ করছি একটি পক্ষ উদ্দ্যেশ্যপ্রনোদিত ভাবে সাংসদ আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম হিলালীর বিরুদ্ধে অপ প্রচারে নেমেছে। তথ্য প্রমান ছাড়াই ফেসবুকে ঢালাও বিবভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করছে যা খুবই দু:খজনক বিষয়। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই যারা কেন্দুয়ার শান্ত পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদল প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”
সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার সহ্য করা হবে না বলেও তিনি জানান। কেন্দুয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে এবং পৌর শহরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংসদ সদস্য দেশের বাইরে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাজু/নিএ


