দুধ মানেই সাদা—এমন ধারণা বদলে দিতে এবার আলোচনায় এসেছে ‘কালো দুধ’। বলিউড অভিনেত্রী অদা শর্মার হাত ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে এই অভিনব পানীয়। শুধু ভিন্ন রং নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও নজর কাড়ছে এটি। বিশেষ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
দুধের রং কালো শুনে অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন, এমন দুধ আবার কোথায় পাওয়া যায়? আসলে এটি কোনো বিশেষ প্রাণীর দুধ নয়। কালো তিল, কাজুবাদাম ও খেজুর দিয়ে তৈরি একধরনের উদ্ভিজ্জ পানীয়। আর সেই পানীয় তৈরির সহজ পদ্ধতিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী অদা শর্মা।
অভিনেত্রীর দাবি, এই পানীয় ত্বকের যত্নে উপকারী হতে পারে। তবে কালো দুধ পান করলেই ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। যদিও এতে ব্যবহৃত উপাদানগুলো বিভিন্ন পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ।
ঘরেই তৈরি করুন কালো দুধ
এই বিশেষ পানীয় তৈরি করতে প্রয়োজন নেই দামি কিংবা দুর্লভ কোনো উপকরণের। রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপাদান দিয়েই বানিয়ে নিতে পারবেন কালো দুধ।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
– কালো তিল—১ বাটি
– কাজুবাদাম—১ বাটি
– খেজুর—৬ থেকে ৭টি
– লবণ—স্বাদমতো
– পানি—পরিমাণমতো
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে একটি শুকনো কড়াইয়ে কালো তিল হালকা আঁচে ভেজে নিন। তিল থেকে সুন্দর গন্ধ বের হতে শুরু করলে চুলা বন্ধ করে দিন। খেয়াল রাখবেন, তিল যেন পুড়ে না যায়।
এরপর ভাজা তিল, কাজুবাদাম ও বিচি ছাড়ানো খেজুর ব্লেন্ডারে নিন। সঙ্গে পরিমাণমতো পানি ও সামান্য লবণ যোগ করে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন।
মিশ্রণটি মিহি হয়ে গেলে পরিষ্কার পাতলা কাপড় বা মসলিন দিয়ে ছেঁকে নিন। এবার একটি গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন পুষ্টিকর কালো দুধ।
চাইলে পানীয়টি কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করেও পান করতে পারেন।
কালো দুধের পুষ্টিগুণ কী?
কালো দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত প্রতিটি উপাদানের রয়েছে নিজস্ব পুষ্টিগুণ।
কালো তিল: কালো তিলে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এসব পুষ্টি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে হাড়ের স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক পুষ্টির জন্য তিল উপকারী হতে পারে।
কাজুবাদাম: কাজুবাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, প্রোটিন, কপার, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্ক। এসব উপাদান শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহায়তা করে। ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও পর্যাপ্ত পুষ্টি প্রয়োজন।
খেজুর: প্রাকৃতিক মিষ্টতার উৎস খেজুরে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পটাশিয়াম ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ। ফলে পানীয়টিতে আলাদা করে চিনি যোগ না করেও মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়।
তবে মনে রাখতে হবে, ছেঁকে পানীয় তৈরির সময় তিল, বাদাম ও খেজুরের কিছু ফাইবার এবং অন্যান্য পুষ্টি অবশিষ্ট অংশে থেকে যেতে পারে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কতটা কার্যকর?
অদা শর্মার দেখানো এই পানীয় ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ত্বকের যত্ন নিয়ে। পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তিল, কাজুবাদাম ও খেজুরের বিভিন্ন উপাদান শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে শুধু কালো দুধ পান করলেই ত্বক উজ্জ্বল হবে কিংবা ত্বকের সমস্যা দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ত্বকের সুস্থতা নির্ভর করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা এবং নিয়মিত পরিচর্যার ওপরও।
অবশিষ্ট মিশ্রণও ব্যবহার করা যাবে?
পানীয় তৈরির পর ছেঁকে নেওয়া তিল ও বাদামের মিশ্রণ ফেলে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, চাইলে সেটি মুখে মেখে কয়েক মিনিট পর ধুয়ে নেওয়া যায়।
তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া খাবারের উপাদান দিয়ে তৈরি যেকোনো মিশ্রণ সরাসরি মুখে ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে কারও কারও ত্বকে জ্বালাপোড়া, অ্যালার্জি বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
অবশিষ্ট মিশ্রণটি বরং উপযুক্তভাবে সংরক্ষণ করে রান্না বা অন্য খাবারে ব্যবহার করা যেতে পারে।
পান করার আগে সতর্কতা
তিল ও কাজুবাদাম অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। তাই এসব উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে পানীয়টি এড়িয়ে চলতে হবে। খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, কালো দুধ প্রচলিত দুধের একটি ব্যতিক্রমী উদ্ভিজ্জ বিকল্প হতে পারে। তবে এটি কোনো অলৌকিক পানীয় নয়। পুষ্টিকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে পান করা যেতে পারে।
সাদা দুধের পাশাপাশি এবার কালো দুধও জায়গা করে নিতে পারে আপনার খাবারের তালিকায়। স্বাদে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি মিলতে পারে কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি।
সূত্র: আনন্দবাজার
বাপ্পি/সা.এ


