Homeসর্বশেষবরগুনায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে, মশারি ছাড়াই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে

বরগুনায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে, মশারি ছাড়াই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে

Published on

spot_img

বরগুনায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ মোকাবিলায় হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি মশারি ব্যবহার ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। তবে হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে অনেক রোগীকে মশারি ছাড়াই শয্যায় থাকতে দেখা গেছে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ানোর পর অন্য ব্যক্তির মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তারিখের দৈনিক ডেঙ্গু প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় মোট ২ হাজার ২৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ১৮৬ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭২ জন রোগী। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা নথিভুক্ত হয়নি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনা সদর হাসপাতালে বর্তমানে ৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। এ ছাড়া আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন, বামনায় ৫ জন, তালতলীতে ৪ জন, বেতাগীতে ৩ জন এবং পাথরঘাটায় ৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বরগুনা সদর উপজেলায় পৃথকভাবে কোনো রোগী ভর্তি দেখানো হয়নি।

এদিকে, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিদর্শনে অনেক রোগীকে মশারি ছাড়াই শয্যায় থাকতে দেখা যায়। হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ৫০টি শয্যার বিপরীতে ৬৩ জন রোগী ভর্তি থাকার তথ্যও উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে এ সংখ্যা ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দৈনিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা রোগীর সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো এডিস মশা কামড়ানোর পর সেই মশা অন্য ব্যক্তিকে কামড়ালে তাঁর মধ্যেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এ কারণে ডেঙ্গু রোগীদের অবশ্যই মশারির ভেতরে থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার বংশবিস্তার রোধ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। শুধু চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না, সংক্রমণ ছড়ানো প্রতিরোধেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালে মশারি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ব্যক্তিগত সতর্কতা ও সমন্বিত প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।



বাপ্পি/সা.এ

Latest articles

পটিয়ায় ১৫ টন চিনি বোঝাই কাভার্ডভ্যান ছিনতাই : লামায় ১৪৪ বস্তা চিনি উদ্ধার

চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে ছিনতাই হওয়া কাভার্ডভ্যান বোঝাই ১৫ টন চিনির মধ্যে সামান্য কিছু...

শনিবার খাগড়াছড়ি-রাঙামাটিতে আধাবেলা সড়ক অবরোধের ডাক

খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে 'ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ'। বৃহস্পতিবার...

সৌদি জোট-হুতি সংঘাত: ইয়েমেনে নিহত বেড়ে ১৫৭৪, আহত প্রায় ৭ হাজার

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া...

কালুখালী সরকারি হাসপাতালে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ভুল রিপোর্ট

রাজবাড়ীতে ভুল চিকিৎসায় তিন নারীর মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে এবার রাজবাড়ীর কালুখালী...

More like this

পটিয়ায় ১৫ টন চিনি বোঝাই কাভার্ডভ্যান ছিনতাই : লামায় ১৪৪ বস্তা চিনি উদ্ধার

চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে ছিনতাই হওয়া কাভার্ডভ্যান বোঝাই ১৫ টন চিনির মধ্যে সামান্য কিছু...

শনিবার খাগড়াছড়ি-রাঙামাটিতে আধাবেলা সড়ক অবরোধের ডাক

খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে 'ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ'। বৃহস্পতিবার...

সৌদি জোট-হুতি সংঘাত: ইয়েমেনে নিহত বেড়ে ১৫৭৪, আহত প্রায় ৭ হাজার

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া...