রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নির্ভরযোগ্য আগাম সতর্কবার্তা না পাওয়ায় ইউক্রেনে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তনভ। তার দাবি, হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেরিতে পাওয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় থাকছে না। এদিকে, ইউক্রেনের জন্য স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেরহি বেসক্রেস্তনভ বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে সময়মতো সতর্ক করতে না পারায় ইতোমধ্যে মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। কখনো হামলার আগে তথ্য পাওয়া গেলেও কখনো হামলার মাত্র এক মিনিট আগে সতর্কবার্তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে এমন অনিয়মকে তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি জানান, রাতের মধ্যে রাজধানী কিয়েভে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর একটির বিষয়ে কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছিল না। অন্যটির ক্ষেত্রে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য খুব অল্প সময় পাওয়া গেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান আবার শুরু হয়েছে বলে এর আগে এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি। তিন দিনের বিরতির পর এ কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় ওয়াশিংটনের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য মতে, রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো বিশেষ সক্ষমতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে।
তবে জেলেনস্কির উপদেষ্টা বেসক্রেস্তনভের দাবি, গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও তা এখনো অসম্পূর্ণ ও অনিয়মিত। অন্যদিকে, ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে বিরতি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তার মতে, ইউক্রেনের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় কয়েক দিন আগে সফটওয়্যারজনিত সমস্যা হয়েছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে স্টারলিংক ও স্টারশিল্ড স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবা ব্যবহারে বিধিনিষেধ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বেসক্রেস্তনভ। তার অভিযোগ, এ বিষয়ে কে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি।
গত সপ্তাহে স্টারলিংক নেটওয়ার্কে সংযুক্ত অবস্থায় চলাচলকারী মোবাইল ইউনিটগুলোর গতিসীমা ঘণ্টায় ১০০ মাইল বা প্রায় ১৬০ কিলোমিটারে সীমিত করা হয়। এতে ইউক্রেনের পক্ষে রুশ ড্রোন প্রতিহত করা এবং রুশ-অধিকৃত এলাকায় মাঝারি পাল্লার ড্রোন হামলা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্টারলিংকের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক গত সপ্তাহে বলেন, পেন্টাগনের জন্য তৈরি স্টারশিল্ড ব্যবহারের অনুমতি শেষ পর্যন্ত মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তবে এ বিধিনিষেধের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বেসক্রেস্তনভের ধারণা, গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে সমস্যা এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগে বিধিনিষেধ একই সময়ে কার্যকর হওয়া ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে। তার মতে, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনকে উৎসাহিত করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তিনি জানান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে সীমিত আগাম সতর্কতা দিতে ইউক্রেনের নিজস্ব রাডার তথ্য রয়েছে। তবে স্টারলিংকের বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা খুঁজতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। বিমান প্রতিরক্ষা, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ এবং বেসামরিক মানুষের সংযোগ নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করছে কিয়েভ।
এ বিষয়ে ট্রাম্প সোমবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে অনেক সহায়তা দিয়েছে, কিন্তু ইউক্রেন তাদের কিছুই দেয়নি।
এদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার রাতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ এলাকায় একটি পার্কের পাশের ক্যাফের কাছে ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশু এবং ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। হামলাটিকে ‘চরম নৃশংসতা’ বলে বর্ণনা করেছেন জেলেনস্কি।
বিবিসি জানিয়েছে, স্টারলিংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য চাওয়া হয়েছে।
স্বাধীন/সা.এ.


