মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে মাঠে নেমেছেন কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ও আলমগীর হোসেন সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিল্পপতি মো. শফিকুল আলম শিপলু। শহরের হাসপাতাল, আদালত ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের আশপাশে নিজেই মশক নিধন স্প্রে ছিটিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এধরনের সচেতন কার্যক্রমে জনমনে প্রশংসিত হয়েছেন। জনতার দাবী এমন জনপ্রতিনিধিকেই জনগণের খাদেম হিসেবে পেতে চান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ও আলমগীর হোসেন সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিল্পপতি মো. শফিকুল আলম শিপলু নিজ হাতে স্প্রে মেশিন নিয়ে এ কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন । বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ড্রেন, ময়লা-আবর্জনাপূর্ণ স্থান ও ঝোপঝাড়ে মশক নিধন স্প্রে ছিটান তিনি। ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
কার্যক্রমের আওতায় কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, নার্সিং ইনস্টিটিউট, ডায়াবেটিস হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, শিশু সদন (বালিকা), চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা জজ আদালত ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মশক নিধন স্প্রে ছিটানো হয়। ডেঙ্গুর প্রকোপের সময়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, মশক নিধনের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কিশোরগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহবুবুর রহমান বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ জনসচেতনতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”
কিশোরগঞ্জ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) (অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব) ডা: মো: সাইদুল হাসান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মা ও শিশুর সুরক্ষায় কিছু জরুরি সতর্কতা মেনে চলা প্রয়োজন। এডিস মশার কামড় থেকে মা ও শিশুকে রক্ষা করতে হবে। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় (বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের দিকে) কামড়ায়। এই সময়ে শিশুদের বাইরে খেলাধুলা বা খোলা জায়গায় কম রাখুন। গর্ভবতী মায়েদের ডেঙ্গু হলে অতিরিক্ত সতর্কতা নিতে হবে, কারণ এটি মা ও অনাগত উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। কিশোরগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ দিপন কুমার দত্ত বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা ইতিবাচক উদ্যোগ। পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।”
কিশোরগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বলেন, “ডেঙ্গুর প্রকোপের সময় মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের ব্যক্তিগত উদ্যোগ প্রশংসনীয়। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মশার বংশবিস্তার রোধে সবাই সচেতন হলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।”
কিশোরগঞ্জ উত্তরণ সমাজ কল্যাণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম শফিক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে একজন সমাজকর্মীর ভূমিকা অত্যন্ত বহুমুখী এবং প্রভাবশালী, কারণ তারা সরাসরি তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের আচরণ পরিবর্তন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করেন। প্রশ চিকিৎসা বিজ্ঞানের পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সামাজিক অংশগ্রহণ এবং পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমাজকর্মীরা অনুঘটক (ঈধঃধষুংঃ) হিসেবে কাজ করে থাকেন। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের প্রয়াত এমপি আলমগীর হুসেনের নামে প্রতিষ্ঠিত আলমগীর সিটির আয়োজনে এই কার্যক্রম প্রশংসনীয়।
নিজের উদ্যোগের বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ও আলমগীর হোসেন সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিল্পপতি মো. শফিকুল আলম শিপলু বলেন “ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করেছি। ডেঙ্গু শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়, এটি পুরো সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তাই শুধু নিজেরা সচেতন হলে হবে না, আশপাশের মানুষকেও সচেতন করতে হবে। মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “আমি চাই, কিশোরগঞ্জ শহরকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করুক। এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানাই।” ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশক নিধন স্প্রে ছিটানোই যথেষ্ট নয়। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করাও জরুরি। ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর পথ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
সাজু/নিএ


