সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও বিদ্যুৎ খাতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, অতীতে অর্থ পাচার ও বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে দেশের জনগণকে এখন বাড়তি আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গত ৯ অক্টোবর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চিফ হুইপ। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে দেশে বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এখন টিভি।
এর আগে গত ২৬ আগস্ট জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিকে ‘গর্হিত অপরাধ’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ওই চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার ফলে জনগণের অর্থের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
চিফ হুইপের ভাষ্য, আগের সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে করা বিভিন্ন চুক্তি দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় তৈরি করেছে। এসব চুক্তির অর্থনৈতিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে সময় প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহসংকট নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধিকেও বিল বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের আর্থিক দায়, জ্বালানি ব্যয় এবং বিভিন্ন চুক্তির প্রভাব সামাল দিতে সময় প্রয়োজন।
বাপ্পি/সা.এ


