খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রানী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের নির্দেশে শ্রেণি কক্ষে সহপাঠীদের দিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে চড়-থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সিনিয়র সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মেহেরাজ জিসান নামের ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বাহিরে শিক্ষকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং অপর শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত ভিন্ন শ্রেনির এক ছেলে শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলার অভিযোগে গত বুধবার শ্রেণি কক্ষে দুই শিক্ষার্থীকে সহপাঠীদের চড়-থাপ্পরের নির্দেশ দেন শিক্ষক নাঈমুল হক। পরে নিজে দাড়িয়ে থেকে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়ের দেয়া নিশ্চিত করেন। এতে কেউ অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধরের হুমকি দেন।
এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে ভেঙ্গে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাদের অভিভাবকরা।
তবে সরেজমিনে বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ওপর আনিত অভিযোগ দুটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবক। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনও তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়া বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিজের দোষ স্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক নাঈমুল হক বলেন, এ ঘটনার জন্য আমি অনুতপ্ত, এটা আমার ভুল হয়েছে, এমনটা করা আমার ঠিক হয়নি।
আর শিক্ষার্থীদের সাথে ঘটে যাওয়া এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতাউল্লাহ।
এদিকে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বদলি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকরা।
তবে এঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার সুভাষ চন্দ্র সিকদার বলেন, ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে জেনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বাপ্পি/সা.এ


