ঢাকায় আরও দুটি মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে সাড়ে ৫৮ হাজার কোটি টাকার কেনাকাটার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের লাইন-১ ও লাইন-৫-এর আওতায় এসব কাজ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। একই বৈঠকে জরুরি ভিত্তিতে সংকট মোকাবিলায় আরও ২ লাখ ৬০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।
বৈঠকে লাইন-১-এর চারটি এবং লাইন-৫-এর একটি প্যাকেজের পূর্তকাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি লাইন-১-এর আরও দুটি এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের একটি প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
লাইন-১-এর সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় বাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ করা হবে। এতে দুটি সুড়ঙ্গ ও বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ এবং খিলক্ষেত—এই তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে। এ কাজে ভ্যাট ও করসহ ব্যয় হবে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক নির্মাণ এবং বৈদ্যুতিক সুবিধা স্থাপন করা হবে। এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে কাজটি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।
লাইন-১-এর সিপি-১০ প্যাকেজে সংকেত ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্মের পর্দা-দরজা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রোকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৫০ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি।
এ ছাড়া সিপি-০২ প্যাকেজে লাইন-১-এর ডিপো, ওয়ার্কশপ, স্টাবলিং শেড, অপারেশন ব্যবস্থাপনাকেন্দ্র ও কারিগরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এ কাজে ব্যয় হবে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার এবং নতুনবাজারের পর থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়ালস্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ কাজে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা।
এ ছাড়া লাইন-১-এর সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণ এবং সিপি-০৭ প্যাকেজে ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণ করা হবে। এ প্যাকেজের মূল চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা।
সাজু/নিএ


