চট্টগ্রামের বাঁশখালী আসনের সাবেক সাংসদ সুলতানুল কবির চৌধুরী ২০১৪ সালের ৩০ জুন ইন্তেকাল করেন৷ অথচ চলতি মাসে সংঘটিত একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দায়ের করা একটি মামলায় তাঁকেও আসামী করা হয়েছে৷ যদিও মামলার বাদির ভাষ্য নামের বানানের ভুলে এমনটা ঘটেছে৷
জানা গেছে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বাঁশখালী) আদালতে পারভীন আক্তার (জখমী) নামের ৪০ বছর বয়ষ্ক এক নারী একটি নালিশী দরখাস্ত দাখিল করেন৷ মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩০ জনের নামে ১৪৩/ ৪৪৮/ ৩২৩/ ৩২৫ /৩০৭/ ৪২৭/৩৭৯/৩৮০/৩৮৫/৩৮৭/৩৫৪/৫০৬(২) দন্ডবিধি ১৮৬০ ধারায় নালিশী দরখাস্তটি দাখিল করেন৷ মামলার আসামীর তালিকায় ১৩ নম্বরে সুলতানুল কবির চৌধুরী (৫৫) পিতা মৃত ফজুল কবির চৌধুরী’র নাম উল্লেখ করা হয়েছে৷ অথচ সাবেক এই সংসদ সদস্য আজ থেকে ১২ বছর আগেই মৃত্যু বরণ করেছেন৷
এই বিষয়ে মামলার বাদি পারভীন আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমার উকিল লিখার সময় ভুলে সুলতানুল কবির চৌধুরীর নামটি লিখে ফেলেছে। আদতে সেখানে আসামী হবে সুনতানুল গণি চৌধুরী৷ তিনি জানান, ২৮ তারিখ আসামীরা তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখল করায় তিনি আদালতে মামলাটি করেছেন৷ ঘটনার সময় সুনতানুল গণি চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, উনারাই আমার পৈত্রিক সম্পত্তি অবৈধ ভাবে দখল করেছেন৷ পুলিশের সহযোগীতায় আমাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়েছে৷
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে বাঁশখালীর সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সুলতানুল কবির চৌধুরীর ছোট ভাই এবং পুঁইছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতানুল গণি চৌধুরী (লেদু মিয়া)-র দুই তলাবিশিষ্ট মার্কেটের কার্যালয়, দোকান ও বোর্ডিং জোরপূর্বক দখল করে টিনের ঘেরা দেয় রশিদ আহমদ ও তাঁর লোকজন। এ ঘটনার পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয় এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
অবশেষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হকের নেতৃত্বে পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ঐক্যবদ্ধ হয়ে দখলদারদের উচ্ছেদ করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের হাতে দোকানপাট ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ ফিরিয়ে দেন।
বাপ্পি/সা.এ


