ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে খুব শিগগিরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি।
২৭ সেপ্টেম্বর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে, আমরা খুব শিগগিরই এই যুদ্ধে জয়ী হব।’ সামরিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মূলত জয়ী হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত হামলা বন্ধ করবে—এমন কোনো কথা তারা বলছে না। তবে তার দাবি, সামরিক দিক থেকে তারা ‘খুব বড়ভাবে জয়ী’ হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মূল বিষয় হিসেবে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানোর কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। অর্থনৈতিক ও সামরিক—উভয় দিক থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বলেও জানান তিনি।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর ইরানের দেওয়া হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প। তবে ২৭ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা হতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়। তবে তিনি অভিযোগ করেন, দেশটি আলোচনায় ‘অতিরিক্ত দাবি’ করছে। ইরানে আবারও হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সবসময় বিষয়টি নিয়ে ভাবছি।’
অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সূত্র জানিয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে আলোচনায় দুই দেশের অগ্রাধিকার ভিন্ন। ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করুক। ফলে দুই পক্ষের মতপার্থক্য কতটা দূর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন। এনবিসিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এটিকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের বিপুল অর্থ ছাড় করিয়ে নেওয়ার একটি ‘অত্যন্ত কৌশলী প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ওয়াল্টজ বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তিতে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের বিষয়টি সমাধান করতে হবে। প্রয়োজনে সামরিক অভিযান আবারও শুরু করার বিষয়টিও ট্রাম্পের হাতে রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়ন ধীর করার আহ্বান নিয়েও কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এআই খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং ট্রিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো নির্মাণ করছে। তাই এ গতি কমানোর কোনো কারণ তিনি দেখছেন না।
এআই বিপ্লবকে ‘একটি শিল্পবিপ্লব’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এটি সম্ভবত শিল্পবিপ্লবের চেয়েও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এ বিষয়ে তিনি নিজে উদ্বিগ্ন নন বলেও জানান।
এদিকে ইলিনয়ে প্রেসিডেন্টস কাপের ভেন্যুতে গিয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি হোয়াইট হাউসে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেইর সঙ্গে ব্যক্তিগত নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে আমোদেই উপস্থিত ছিলেন না। এরপর ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তাকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান।
সাজু/নিএ


