প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এক অনন্য চিত্র ফুটে উঠেছে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের দুধকুমার নদের চরে। সেখানে শুভ্রতা ছড়াচ্ছে কাশফুল।
নদের বুক চিরে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা এসব কাশফুল প্রকৃতি প্রেমিদের কাছে টানছে আর ভ্রমণপিপাসুদের জানাচ্ছে উষ্ণ অভ্যর্থনা। শরতের মেঘ মুক্ত আকাশে পড়ন্ত বিকেলে দুধকুমার নদের পাড়ে কাশফুল যেন সাদার মায়াবী চাদর বিছিয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোনো জীবন্ত ছবি। কাছে গিয়ে দেখা যায় সবুজ ঘাসের ভেতর মাথা উঁচু করে বাতাশে দোল খাচ্ছে পালকের মতো নরম ধবধবে সাদা কাশফুল। স্থানীয়রা জানান, নদের পাড়ে জেগে ওঠা চরে শত শত বিঘা জমির উপর কোনরুপ পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে ওঠেছে কাশফুলের গাছ। নাম রাখা হয়েছে কাশফুলের ঘাট।
এটি শুধু একটি নাম নয় এটি স্থানীয় মানুষের স্মৃতি, প্রকৃতিপ্রেম আর গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা এক নৈসর্গিক অধ্যায়। পড়ন্ত বিকেলে নদের পাড়ে কাশফুলের রাজ্যে দেখা মেলে মানুষের আনাগোনা। কেউ আসে প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে, কেউবা আসে প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা সময় কাটাতে। আর প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে ছুটে আসেন দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরাও। সরেজমিনে গিয়ে দর্শনার্থীদের মিলন মেলা দেখা যায় ইসলামপুর চরে।
সেখানে ৭ বন্ধু মিলে “কাশফুলের ঘাট” নামে একটি কপি সপ দিয়েছেন। তাদের দুইজন শ্রাবন ও গাজি জানান, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই কাশফুলের বন দেখতে আসে। চরে কোথাও সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকায় তারা একটি কফি সপ দিয়েছেন। সেখানে বোতলজাত পানি, কোমল পানীয়,ফুচকাসহ অন্যান্য জিনিস পত্র রয়েছে। বেচা কেনাও হয় ভালো। দুপুরের পর থেকে রাত অবধি থাকে মানুষের আনাগোনা।তাদের ভাষ্য, সাদা শুভ্র মেঘের ঝিলিকে কাশফুলের সৌন্দর্য এক কথায় প্রকাশ করা দুষ্কর। এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলনমেলা ঘটে কাশফুলের ঘাটে।
ভূরুঙ্গামারী সদরের বাগভান্ডার গ্রাম থেকে ইসলামপুর চরে কাশফুলের এই অপার সৌন্দর্য দেখতে এসেছেন আরিফ ও তাহমিনা দম্পতি।জানালেন কাশফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্যে মুগ্ধ তারা।
চরে বেড়াতে আসা মাছুমা খন্দকার জানালেন, কাশফুলের সমারোহে বিকেলের বাতাস যেন শীতের আগমনের বার্তা দিচ্ছে। শৈশবের স্মৃতিগুলোও মনে পড়ছে। এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।
আব্দুল কাদের নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, তার তিন বিঘা জমিতে কোন রুপ পরিশ্রম ও পরিচর্যা ছাড়াই কাশফুল হয়েছে। প্রায় ১৫ হাজার টাকার কাশ ও ছন বিক্রি করা যাবে।কাশের গোড়ালি গুলো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হবে। এক সময় ঘরের চালা ও বেড়া, পানের বরজ, বাগানের বেড়া হিসাবে এই কাশ ও ঝাড়ু হিসেবে ছনের প্রচুর চাহিদা ছিলো। প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, নদীর তীর, চরাঞ্চল ও অনাবাদি জমি সংরক্ষণ করা গেলে কাশফুলের বিস্তার আরোও বাড়ানো সম্ভব। তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কাশফুলের সৌন্দর্য প্রকৃতির নিয়মেই পৌছে যাবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার ওমর ফারুক জানান, তিনি নতুন এসেছেন। কাশফুল যেহেতু কোন রুপ পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে তাই উপজেলায় কি পরিমান জমিতে কাশফুল হয়েছে সেই তথ্য দপ্তরে সংরক্ষিত নেই।
বাপ্পি/সা.এ


