ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বিতর্কের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজিপি)। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির জাতীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে ও অন্য নেতারা এই দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন স্থগিত রাখা এবং ভোটার তালিকার চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং ভোটার তালিকার তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সিজিপির নেতারা নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিইসির কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যও রয়েছে এবং অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
আগেও আন্দোলনের নেতৃত্বে সিজিপি
এর আগে পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দেশজুড়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের পর গত ২৫ জুলাই ভারতের তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করেন এবং পরে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রহ্লাদ যোশির কাছে দেওয়া হয়।
বর্তমান দাবিকে ঘিরে সিজিপি জানিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিইসি পদত্যাগ না করলে তারা দেশজুড়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে। সংগঠনটির নেতারা দিল্লিতে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নতুন এই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। ফলে ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
বাপ্পি/সা.এ


